তাহমিনা আক্তার,ঢাকা: দীর্ঘ দেড়যুগ পর মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৪৯টির প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপি ১৭৭টিতে জয় পেয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ৫৬টি, এনসিপি ৫টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ভোটার ও সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে গণনা করে ফল ঘোষণা করা হয়।
৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। একই দিনে সংস্কার-সম্পর্কিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

‘ঈদ উৎসবের’ আবহ:
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ছিল ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এবারই তারা ভোট দিতে পেরেছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিহা আফরিন প্রথম ভোট দিয়ে বলেন, “ঈদের মতো আনন্দ লাগছে।” চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ৭৬ বছর বয়সী নুরুল বাকী বলেন, “১৭ বছর পর নির্ভয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলাম।”

নির্বাচনের দিন কোথাও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া:
বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, তাদের বিজয় অনিবার্য।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনকে “অনন্য” আখ্যা দিয়ে সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যের চিত্রও দেখা গেছে।
দীর্ঘদিন পর অবাধ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস নির্বাচনকে এক ‘ভোট উৎসবে’ পরিণত করেছে।
Leave a Reply