অনলাইন ডেস্ক: মিজেলস ভাইরাসবাহিত রোগ হাম উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ হাম রোগী শনাক্তের রেকর্ড। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অত্যন্ত সংক্রামিত হামে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সেখানে শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যায় একাধিক হাম রোগী ভর্তি করে সেবা দিতে দেখা গেছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকটে এক শয্যায় একাধিক রোগী রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, এতে করে অন্য রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

গত একদিনে হাম আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও সাত শিশু। সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে এ রোগে ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ২১৬ জন মারা গেছে বলে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিশ্চিত হাম রোগে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। তার পরেই আছে বরিশাল, সেখানে মারা গেছে পাঁচজন। অন্যদিকে হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১০২ জন ঢাকায় মারা গেছেন; রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন ৬৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৩ জন নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে ১ হাজার ৪২১ জন হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫৯ জন। সবচেয়ে বেশি ৪০৪ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম ৮ জন ভর্তি হয়েছেন রংপুরে।
সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২৮। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৬০৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগে এ পর্যন্ত ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৫ শিশু টিকা পেয়েছে। এছাড়া দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭২ জন শিশু টিকা পেয়েছে।

রোববার দুপুর দেড়টা। শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতা?লে চতুর্থ তলার ৪২১নং শিশু ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের পি-৪২ নম্বর শয্যায় হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে ৭ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ, ৬ বছরের নূরনবী, ৩ বছরের নূর মোহাম্মদ ও ১ বছর ৮ মাস জোহায়ের। এ চার শিশু সম্পর্কে সহোদর। তীব্র জ্বর নিয়ে আব্দুল্লাহ বিছানায় কাতরাচ্ছিল। আর নূর নবী মায়ের কোলে উঠার জন্য আঁচল ধরে টানছিল। অসুস্থতার কষ্টে নূর মোহাম্মদ কান্নাকাটি করছিল এবং ছোট জোহায়ের নিজ হাতে থাকা ক্যানোলা খুলে ফেলার চেষ্টা করছিল। পাশেই শয্যায় বসে থাকা চার রোগীর একমাত্র সুস্থ ভাই ১০ বছরের শিশু আলামিন ডাব খাওয়ার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরছিল। আক্রান্ত শিশুদের সেবায় মা লিলি বেগম ব্যাকুল হয়ে উঠছেন।
মা লিলি বলেন, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মুরগির খামারে কাজ করেন। সন্তানদের নিয়ে খামারেই এক কোনায় থাকেন। ২০ দিন আগে প্রথমে বড় ছেলে আলামিনের জ্বর শুরু হয়। কয়েকদিনের মধ্যে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা হাসপাতালে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়। ওই সময় ছেলেরা হাসপাতালে তার সঙ্গে ছিল। এরপর ১৫ দিন আগে ছোট ছেলের ১০৫ ডিগ্রি জ্বর আসে। পরিদন বাকি তিন ছেলেও আক্রান্ত হয়। চারজনেরই চোখ লাল, চোখে ময়লা ও চোখ খুলতে কষ্ট হচ্ছিল। সঙ্গে মুখে ঘা, কাশি, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে গেলে চার ছেলেকে এক সপ্তাহ রাখে। তারপর ঢাকার হাসপাতালে পাঠায়। ঢাকায় এসে ঢাকা মেডিকেল ও কুর্মিটোল জেনারেল হাসাতালে গিয়ে কোনো শয্যা পাননি। সেখান থেকে মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে গেলে একদিন ভর্তি রেখে পরদিন বৃহস্পতিবার এখানে পাঠিয়ে দেয়। একজন অ্যাম্বুলেন্সে এখানে ভর্তি করে দিয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে দুজন কিছুটা সুস্থ হয়েছে। বাকি দুজন সুস্থ হলে চলে যাব। কিন্তু সন্তানের সেবা করতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রায় ৯০ ভাগ শয্যাতেই দুজন করে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। নরসিংদী থেকে আসা রেহেনা বেগমসহ একাধিক শিশুর অভিভাবক যুগান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, এখানে ভর্তি বেশির ভাগ শিশু উপসর্গ নিয়ে এসেছে। কিন্তু অনেকের নিশ্চিত হাম ধরা পড়েনি। অত্যন্ত সংক্রামিত রোগ হামের চিকিৎসায় বাচ্চাদের আইসোলেশনের দরকার হলেও উলটো এক বিছানায় দুই থেকে তিনজনকে রাখা হয়েছে। অনেকের আলাদা বিছানা দরকার হলেও দেওয়া হচ্ছে না।
৪২১নং শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সান্ত্বনা আক্তার জানান, ৬০ শয্যার ওয়ার্ডটিতে সকালে ভর্তি ছিল ৯৫ শিশু। সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৭ জন ভর্তি ও ২৩ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ৪২৪ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে নার্স আশা রানী বলেন, ৩০ শয্যার ওয়ার্ডটিতে বর্তমানে ৪২ জন ভর্তি আছে। সবাই হামের রোগী। যাদের অনেকেই হামের সঙ্গে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। আরেক নার্স তাহমিনা আক্তার ইভা বলেন, চাপ সামলাতে ওয়ার্ডের প্রত্যেক বেডেই দুজন করে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গত রাত ২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অত্যধিক শ্বাসকষ্টের রোগীদের ভেনটিলেটর সাপোর্ট বা এনআইসিইউ লাগছে। হাসপাতালে এনআইসিইউ না থাকায় অনেক অভিভাবককে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু ওয়ার্ডের দুজন চিকিৎসক বলেন, হামের টিকা সংকটসহ কিছু বিষয়ে কথা বলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনসহ কয়েকজনকে বদলি করেছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে-হাম আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে এলে এবং ভর্তি উপযোগী হলে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। এদিকে ওয়ার্ডে রোগীর চেয়ে শয্যা কম। ফলে এক বিছনায় একাধিক রোগী না রেখে উপায় নেই। চিকিৎসা নিতে এসে কেউ ফিরে গেলে সেটি নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন বলেন, হামের প্রার্দুভাব জাতীয় সংকট হিসাবে দেখা দিয়েছে। রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসছে। রোগীর অনুপাতে হাসপাতালে শয্যা কম হওয়ায় এক বিছানায় দুজন-তিনজন রোগী রাখা হয়েছে। হাসপাতালে এনআইসিসিইউ ও পিআইসিইউ প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, আমরা শুরু থেকে হামের সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি এ পর্যন্ত। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর চিকিৎসক ও নার্স ম্যানেজ হলেই পিআইসিইউ চালু হবে।
দেশের ৬১ জেলায় হামের সংক্রমণ : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, দেশের ৬১টি জেলায় সংক্রামক রোগ হাম ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও রাঙামাটিতে এখনো এর সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। রাজশাহী বিভাগে চলমান হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের অগ্রগতি ও ঘাটতি পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সমাজসেবা দপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক ড. কস্তুরী আমিনা কুইন, উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বক্তৃতা করেন।
সিলেট : সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। ফলে গত দুদিনে সিলেটে ৫ শিশু মারা গেল। আর চলতি মাসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

বগুড়া : বগুড়ায় হাম উপসর্গের রোগী বেড়েই চলেছে। উপসর্গ নিয়ে রাইয়ান নামে দশ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোববার বিকালে শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ শিশুটির মৃত্যুর তথ্য জানান। মৃত শিশু রাইয়ান বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী এলাকার আতিকুল ইসলামের ছেলে। এর আগে হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে হুমায়রা নামে দশ মাস বয়সি আরও এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। শিশুটির পরিবার নমুনা সংগ্রহ করতে না দেওয়ায় তার মৃত্যু হামে হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ময়মনসিংহ : হাম আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ শিশুর মৃত্যু হলো। ২১ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে ত্রিশাল উপজেলা থেকে ৩ মাস বয়সি মেয়ে শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে নগরীর আরও ৫৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিন সুস্থ হওয়ায় নগরীর ২৮ শিশুকে হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ছিল ১৯১ জন। রোববার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে রিপোর্ট না আসায় এদিন নতুন করে হাম আক্রান্তের কোনো তথ্য জানাতে পারেনি সিভিল সার্জন কার্যালয়। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলায় এ পর্যন্ত ৭৮ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে নগরীর ৫৪ জন এবং উপজেলার বাসিন্দা রয়েছে ২৪ জন। সর্বশেষ রোববার নতুন করে ২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ৫৮৯ জনের নমুনা পাঠানো হলো। এর মধ্যে নগরীর ৪৬৬ জন এবং উপজেলার ১২৩ জন রয়েছে। এর আগে শনিবার নগরীর ৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
সিরাজগঞ্জ : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ২৫২ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৯৮ জন। এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫৪ জন।
Leave a Reply