বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
‘তুমি তো সাপের লেজে পা দিছো’ বলে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ নেননি ওসি!

‘তুমি তো সাপের লেজে পা দিছো’ বলে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ নেননি ওসি!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর থানার ওসি “তুমি তো সাপের লেজে পা দিছো” বলে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগে এক গৃহবধূ সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশ উদাসীনতার কারণে তিনি লজ্জা ও অপমানের মধ্যে পড়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরনীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নুরুন নাহার বেগম। এ সময় তাঁর স্বামী আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে নুরুন নাহার বলেন, তিনি একই গ্রামের এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনা করতেন। জিয়াউর রহমান খানের সঙ্গে গ্রামের কয়েকজনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। জমির মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হলে তিনি সেই মামলার সাক্ষী হন। এরপর থেকেই বিরোধের জেরে তাঁকে দিয়ে জিয়াউর রহমান খানকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

নুরুন নাহারের অভিযোগ, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা তাঁকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেন। পরদিন তাঁর শাশুড়িকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তাঁর বাড়িতে ঢুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনি কবির খান পলাশ, স্বচ্ছ মিয়া, ইমতিয়াজ খান রওনক, আব্দুস সাত্তার, কেয়া বেগমসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে গাইবান্ধা সদর থানায় যান।

তবে তাঁর দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো তাঁকে ‘মীমাংসা করে নিতে’ বলেন। এবং আরো বলে যে ‘তুমি তো সাপের লেজে পা দিয়েছো! অপমানিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি বিষপান করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহার বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ ও মামলা গ্রহণে গড়িমসি প্রসঙ্গে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা ও মানসিক সহায়তা জরুরি। অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বসহকারে গ্রহণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com