প্রেরক:
……..
[ঠিকানা]
[মোবাইল / ইমেইল]
প্রাপক:
মাননীয় সচিব
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
বিষয়: লালমনিরহাট সদর উপজেলায় অবৈধ কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনা ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
জনাব,
আমি,……… , একজন সচেতন নাগরিক ও সাংবাদিক, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কিছু কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অবৈধ কার্যক্রম এবং সরকারি নীতিমালা অমান্য সম্পর্কে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমার অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখানে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশু শিক্ষার মান ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
1. অনিয়ন্ত্রিত স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি:
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় অনিয়ন্ত্রিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করছেন না।
2. শিক্ষা নীতিমালা লঙ্ঘন:
অনেক স্কুলে যথাযথ খেলার মাঠ বা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই, যা শিশু শিক্ষার মান ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারি নীতিমালা ২০২৩ অনুযায়ী, পৌর এলাকায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ১২ শতাংশ জমি থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক স্কুল, যেমন নর্থ পিনাকল স্কুল এবং ব্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়, এই শর্ত পূরণ করছে না।
২০২৩ সালের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা নীতিমালার বিধি ৪, উপ-বিধি (৫) অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঠদান অনুমতি প্রয়োজন। এই শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও কিছু স্কুল কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সরকারি বই পাচ্ছে।
3. দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম:
জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয় পরিদর্শন ছাড়া পাঠদান অনুমতি প্রদান করেছেন।
অনুমোদিত অনুমতির মেয়াদ এক বছর হলেও, মেয়াদ শেষের কমপক্ষে ৩০ দিন আগে পুনঃনিবন্ধনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন করতে হয়। এই সময় বিদ্যালয় যাচাই-বাছাই ও পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, উপজেলা শিক্ষা অফিসার দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং উপঢৌকনের বিনিময়ে ফাইল যাচাই-বাছাই ছাড়া স্বাক্ষর হস্তান্তর করেছেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিদর্শন করা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেখা গেছে, তিনি পরিদর্শন না করে শুধুমাত্র আবেদনে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে ফাইল ফরোয়ার্ড করছেন এবং মূল্যায়ন পত্র জাল বা অনুপস্থিত রেখে অনুমোদন দিচ্ছেন।
4. নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের উদাহরণ:
১. নর্থ পিনাকল স্কুল – স্টেডিয়াম রোড, পৌরসভা, লালমনিরহাট সদর। রাস্তার পাশে একটি ৩ তলা ভবন, যা সম্ভবত ১৪০০–১৫০০ বর্গফুটের। এখানে কোনো খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই; প্রত্যহিক সমাবেশও সম্ভব নয়। সরকারি নীতিমালা ২০২৩ অনুযায়ী, পৌর এলাকায় কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ১২ শতাংশ জমি প্রয়োজন, কিন্তু নর্থ পিনাকল স্কুলে মাত্র ৫–৬ শতাংশ জমি রয়েছে।
২. ব্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয় – লালমনিরহাটের প্রান্তকেন্দ্র, মিশনমোড়। নিচতলায় ‘স্বপ্ন সুপার শপ’ এবং উপরের তলায় স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কোনো খেলার মাঠ নেই এবং ১২ শতাংশ জমি নেই, যা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ। এছাড়াও, এই অবস্থানে স্কুল পরিচালনা করা হলে ভবনে আগুন বা জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
উপরোক্ত উদাহরণগুলো দেখায় যে, অনেক বিদ্যালয় সরকারি নীতিমালার আওতায় না পড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং শিশুদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অনুরোধ:
1. লালমনিরহাট সদর উপজেলার সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুল সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিদর্শন পূর্বক এবং যাচাই-বাছাই করে পাঠদান অনুমতি প্রদান করা হোক।
2. অনুমতি পাওয়ার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন নীতিমালা অনুসারে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়।
3. যারা নীতিমালা লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিশু শিক্ষার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
ধন্যবাদান্তে,
বিনীত,
…….
[তারিখ]
অনুলিপি:
1. মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE), ঢাকা
2. অতিরিক্ত সচিব (প্রাথমিক শিক্ষা), গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
3. বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রংপুর বিভাগ
4. জেলা প্রশাসক, লালমনিরহাট
5. জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, লালমনিরহাট
6. উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লালমনিরহাট সদর
7. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, লালমনিরহাট সদর
Leave a Reply