বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে নকলের ভিডিও ভাইরাল তাবিজের দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ: কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট পঞ্চগড়ের বোদায় ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা, রাজধানীতে তরুণ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু পঞ্চগড়ে ছোট ভাই হত্যা: বড় বোন গ্রেপ্তার, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যার দাবি পুলিশের আদিতমারীতে ২৯৬ বোতল এস্কাফ সিরাপসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার মারামারি আর ফাউলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে ফাইনালে আর্জেন্টিনা কুমিল্লা দাউদকান্দি থানা পুলিশের অভিযানে পিকআপ ভ্যান ভর্তি ৪৭ কেজি গাঁজা উদ্বার আটক-১
‘ভাবির হোটেল’-এর বাস্তবতা: নামেই যত জৌলুস, পাতে ভাতই শেষ!

‘ভাবির হোটেল’-এর বাস্তবতা: নামেই যত জৌলুস, পাতে ভাতই শেষ!

ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

জিল্লুর রহমান পলাশ: এখন শহর-গ্রাম সব জায়গাতেই এক নতুন ট্রেন্ড—‘ভাবির হোটেল’, ‘চাচির হোটেল’, ‘চাচার হোটেল’, ‘মামির হোটেল’। এমনকি সীমান্তের কাছেও পাওয়া যায় ‘বুড়ির হোটেল’! নাম শুনলেই মনে হয়—খাবারে থাকবে বাড়ির স্বাদ, যত্ন, আর অতিথিপরায়ণতা। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা একেবারে উল্টো।

ধরুন, দুপুরে বন্ধুদের নিয়ে ঢুঁ মারলেন এমন এক ‘ভাবির হোটেলে’। চারদিকে গমগম করছে লোকজন, টেবিলের পর টেবিল ভরে গেছে খাওয়ারত মানুষের ভিড়ে। দুইজন নারী—একজন ভাত দিচ্ছেন, আরেকজন তরকারি; মাঝে মাঝে ডেকে বলছেন, “এইদিকে আসেন”, “মাংস দেন”, “প্লেট দেন”—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল উষ্ণতা!

এরই মধ্যে পাশের টেবিল থেকে শোনা গেল, “ভাত দেন ভাবি!” ভাবি হাসিমুখে উত্তর দিলেন, “ভাত শেষ!” সবাই তখন চুপচাপ। পেটে না ভরলেও বিল কিন্তু পুরো ২২০০ টাকা! বাইরে বের হয়ে সবার মুখে একই কথা—
“নামের জৌলুস আছে, কিন্তু খাবারে অনটন!”

প্রচারণায় স্বপ্ন, বাস্তবে হতাশা:
এইসব হোটেলের প্রচারণা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। কেউ লিখে রাখে— “১৫০ টাকায় মাংসসহ পেট চুক্তি!”
“ইচ্ছে হলে যতবার খাও!”

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে “কালো ভুনা হাঁস”, “আটার ডাল” বা “দেশি মুরগির ঝোল”—যেন খেয়ে উঠলে গ্রামের বাড়ির সেই রাঁধুনির হাতের স্বাদ ফিরে আসবে!

কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাদ, পরিমাণ আর সেবার মান—সবই গড়পড়তা। অনেক সময় খাবার ঠান্ডা, মাংস কম, আর ভাত শেষ হয়ে যায় মাঝপথেই।

মান না বাড়লে ‘নাম’ টিকবে না:
নামের ঝলক আর ফেসবুক রিভিউ দিয়ে হয়তো শুরুটা ভালো হয়, কিন্তু খাবারের মান যদি টেকে না—তাহলে গ্রাহকও আর টেকে না।

মানুষ এখন অভিজ্ঞতা খোঁজে। শুধু ‘ভাবির হোটেল’ লেখা সাইনবোর্ড নয়, দরকার সততা, পরিমাণে সঙ্গতি, আর পরিষ্কার পরিবেশ।

এইসব ছোট খাবার দোকানগুলোই হতে পারত স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণ, কিন্তু যদি ভোক্তা ঠকেই যায়—তবে ‘ভাবির হোটেল’ হয় এক রকম রসিকতার নাম।

ভালো নামের সঙ্গে ভালো খাবারেরও মিল থাকুক। নামেই ভাব, পাতে না থাকুক ‘ভাত শেষ!’—এই হোক আমাদের ‘গ্রাহক অভিজ্ঞতার’ নতুন বাস্তবতা।

✍️ জিল্লুর রহমান পলাশ
সাংবাদিক ও লেখক


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com