বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ নতুন আইনজীবীদের আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। নতুন পরিচয়—আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট—অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক, যা পেশাজীবী হিসেবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতীক।

ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আমি সেই তালিকায় নেই। ২০১৩ সালে এলএলবি পাশ করেও বার কাউন্সিলে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি, কিন্তু সফল হইনি। ন্যূনতম মেধা বা নিয়মিত অধ্যয়ন না থাকলেও আমি বর্তমানে গাইবান্ধা বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আমার লক্ষ্য কখনো ওকালতি নয়। আমার পথ সাংবাদিকতা—সত্য বলার, মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার, সমাজের সমস্যার গল্প জানানোর।
ওকালতি করলে আদালতের প্রক্রিয়ায় একজন পক্ষের ভূমিকায় থাকতে হয়—বাদী বা বিবাদী। কিন্তু সাংবাদিকতা আমাকে স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশের সুযোগ দেয়। যা ঘটে, যা দেখি—সবই আমি তুলে ধরতে পারি। অভিযুক্তের কথা, ভুক্তভোগীর বেদনা—সবই প্রকাশ করতে পারি, পক্ষপাতহীনভাবে। এই স্বাধীনতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগই আমার সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা সত্যিই কঠিন। তিন ধাপের কঠোর পরীক্ষা—এমসিকিউ, লিখিত ও ভাইভা—পেরিয়ে তবেই চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হতে হয়। অনেক মেধাবীও এ পরীক্ষায় সফল হন না। তাই যারা সফল হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন। আশা করি তারা সততা ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে আদালতে মানুষের সেবা নিশ্চিত করবেন। ন্যায়বিচার যেন মানুষের কাছে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে—এই দায়িত্ব তাদের কাঁধে।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে, আমার বাবা জহুরুল ইসলাম মণ্ডল (তোতা মিয়া) ও আমার চাচাতো ভাই ও ভগ্নিপতি—সবাই ওকালত করেছেন। তাই আদালতের পরিবেশ এবং প্রক্রিয়া আমার কাছে অপরিচিত নয়। তবু আমার পছন্দ সাংবাদিকতা। কারণ সাংবাদিকতা আমাকে স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশের সুযোগ দেয়।

আমি চাই নবীন আইনজীবীরা পেশায় সততা ও ন্যায়ের পথে এগোন। তাদের কাজ হোক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়ের সেবা নিশ্চিত করা এবং সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
একবার আরও অভিনন্দন ও শুভ কামনা সকল নবীন আইনজীবীদের জন্য।
জিল্লুর রহমান পলাশ
এম.এ- এলএলবি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)
গণমাধ্যমকর্মী, যমুনা টিভি, গাইবান্ধা
Leave a Reply