বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে ভেসে আসা জাহাজ নিয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎ ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতেই উধাও ২০ কার্টন খেজুর লালমনিরহাটে বিয়ের অঙ্গীকার করে অস্বীকা : সেনাসদস্যের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশনে তরুণী বিবিসি বাংলাকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাহদীর লিগ্যাল নোটিস জামায়াত নেতার ড্রয়িংরুমে মিলল মিনি পেট্রোল পাম্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হাদির সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয় চরফ্যাশনে ২৮৮ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড,‎ দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি প্রাথমিক বৃত্তিতে ৮০–২০% কোটা: মেধার স্বীকৃতি নাকি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বৈষম্যের সূচনা? ‎কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির প্রতিবাদ: পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পে নেতাদের জড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন
আদা-রসুন-পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা লালমনিরহাটবাসী

আদা-রসুন-পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা লালমনিরহাটবাসী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষ এখন যেন বাজারে গিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা এক দিশেহীনতার মুখে। প্রতিদিনের রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান—আদা, রসুন আর পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করেই আকাশছোঁয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই তিন পণ্যের অগ্নিমূল্য যেন সাধারণ মানুষের হাঁড়ির আগুন নিভিয়ে দিচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে লাগাতার দাম বাড়তে বাড়তে এখন তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার করা হয়ে উঠেছে এক ভয়াবহ চাপ—যেন পকেটের টান তাদের নিঃশ্বাস পর্যন্ত চেপে ধরছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে শিয়ালখোওয়া কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। দেশি রসুন কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও (৯০–১২০ টাকা), বিদেশি রসুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ (১৪০–১৬০ টাকা)। অন্যদিকে দেশি আদা কেজিপ্রতি ১৫০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে—দেশি আলু মিলছে ২০–২৫ টাকায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন যথেষ্ট হলেও কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ায় পাইকারি পর্যায়েই দাম চড়া। আবার ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি অনিয়মিত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

পেঁয়াজ বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, “দেশি পেঁয়াজ প্রচুর আছে, কিন্তু কৃষকরা বেশি দামে ছাড়ছেন। ভারতীয় পেঁয়াজও সবসময় ঠিকমতো আসে না। তাই বাজারে অস্থিরতা চলছে।”

রসুন–আদার ব্যবসায়ী কালাম মিয়ার দাবি, “রসুন ও আদা মূলত আমদানিনির্ভর। আমদানি ব্যাহত হলেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। আমরা নিজেরা দাম বাড়াই না, পাইকারি বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়।”

কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মতে, বাজারের লাগাম যেন পুরোপুরি দুর্বৃত্ত সিন্ডিকেটের হাতে। দাম নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর তদারকি নেই। গৃহিণী শাহনাজ পারভীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রান্নায় পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাধ্য হয়েই অগ্নিমূল্যে কিনতে হচ্ছে। মাস শেষে সংসারের খরচ মেলাতে গিয়ে আমরা যেন দমবন্ধ অবস্থায় বেঁচে আছি।”

আরেক ক্রেতা মমিনুল হকের আক্ষেপ, “এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাজারে অস্থিরতা চলছে। প্রতিদিন দাম বাড়ছে, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। সরকারের উচিত এখনই কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, না হলে সাধারণ মানুষ টিকতে পারবে না।”

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানান,
“বাজার মনিটরিং চলছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রমাণিত হলে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে অস্থিরতা বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com