নিজস্ব প্রতিবেদক::উত্তরের জেলা রংপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে আজও ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, আজও জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ খুব একটা অনুভূত হচ্ছে না। বিকেল গড়াতেই হিমেল হাওয়ার ঝাপটায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন:
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোরে যারা কাজের সন্ধানে বের হন, কনকনে ঠান্ডায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষি শ্রমিকদের উপস্থিতি কমে গেছে রাজপথে ও ফসলের মাঠে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ।
শহরের রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক। শীতে দাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতির হারও কমেছে।

বাড়ছে শীতজনিত রোগ:
শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহারের এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বা রাতে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস:
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রা খুব কম না হলেও শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তিনি জানান, এই পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন সকালে ঘন কুয়াশা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শীতজনিত দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য আরও বেশি শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply