বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
রাজশাহীতে নারী ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে ব্লাস্টের সভা পঞ্চগড়ে উত্তরণের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা দেখে ত্রাণমন্ত্রীর ৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রংপুরের তারাগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত উপদেষ্টা হওয়ার কালে দোসর ভালো লাগে, এখন লাগে না’ মাদারীপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বাগেরহাটে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত রাষ্ট্রপতির কাছেই শপথ নিয়েছিলেন, তাহলে এখন বিরোধিতা কেন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চরফ্যাশনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর অত্যাচারের প্রতিবাদে নারী-পুরুষের বিক্ষোভ
দুপুরেই তালা ঝোলে স্কুলে, শিক্ষাবঞ্চনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

দুপুরেই তালা ঝোলে স্কুলে, শিক্ষাবঞ্চনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর-কলমি ইউনিয়নের ৭২ নং দক্ষিণ চরমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর গড়াতেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার নিয়ম থাকলেও দুপুর ১টার আগেই তালা ঝুলে যায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে। ফলে পড়াশোনায় বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় খোলা তারিখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে হাসি-খেলায় মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। কেউ বই-খাতা হাতে নিয়ে ছুটেন শ্রেণিকক্ষে, কেউ বা বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে থাকেন। ছোট্ট মুখগুলোয় ফুটে উঠে পড়াশোনায়।

কিন্তু দুপুর নামতেই পাল্টে যায় সেই চিত্র। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়—বিদ্যালয়টি ফাঁকা, শ্রেণিকক্ষগুলো অন্ধকার, প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। নেই কোনো শিক্ষক, এমনকি অফিস সহকারীও অনুপস্থিত। বই-খাতা হাতে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল জানায়, “আমরা সকালে বিদ্যালয়ে আসি। দুপুরের পর স্যাররা না থাকায় কিছুক্ষণ খেলে, এখন বাড়ি চলে যাই।” তার সহপাঠী রায়হানের অভিজ্ঞতাও একই। সে বলে প্রায় সময়েই শিক্ষকরা বিদ্যালয় দুপুরে আগে ছুটি দিয়ে দেন।”

শিক্ষার্থী সুমন অভিযোগ করে বলে, “সকালে বিদ্যালয়ে কোচিং হয়, কিন্তু দুপুরে শিক্ষকরা বাড়ি চলে যান। ফলে ক্লাসের পড়া ঠিকমতো বুঝতে পারি না।”

শুধু পড়াশোনা নয়—শিক্ষকদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো হয় অফিস সহকারীর কাজ, এমনকি বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বও চাপানো হয় তাদের ওপর—অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয় কৃষক ফারুক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য নেই। স্কুলেই যদি শিক্ষকরা না পড়ান, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছাড়া আর কিছু নয়।”

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, নিয়মিত ক্লাস না হলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে, যার বোঝা বইতে হবে পরিবার ও সমাজকে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেন জানান, “শিক্ষকরা পারিবারিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় আজ বিদ্যালয়ের দুপুর বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন আর হবে না।” এবং বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক কোচিং পড়াবেন না।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিকাল ৪ টার আগে কোনো বিদ্যালয় বন্ধ করার নিয়ম নেই। ওই বিদ্যালয়টি দুপুরে কোনো বন্ধ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com