অনলাইন ডেস্ক::চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা, অপারেশন টেবিলে রোগীর জীবন নিয়ে খেলা! ডিগ্রি নেই, অনুমোদন নেই, তবু নিজেদের ‘বিশেষজ্ঞ’ বলে চালিয়ে অপারেশন থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার পর্যন্ত করতেন দুই পল্লী চিকিৎসক। শেষমেশ অভিযানে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ভুয়া চিকিৎসা বাণিজ্যের মুখোশ উন্মোচন করে।

অভিযুক্ত দুই পল্লী চিকিৎসক হলেন, ঠাকুরদিঘীর পাড় এলাকার মসজিদ মার্কেটের মো. এহসান হাবীব এবং ছমদিয়া পুকুর পাড় এলাকার সুকুমার দে। তারা কেউই কোনো প্রকার এমবিবিএস কিংবা অনুমোদিত চিকিৎসা ডিগ্রিধারী নন। অথচ নিজেদের ‘জটিল ও কঠিন রোগের বিশেষজ্ঞ’ দাবি করে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে বছরের পর বছর প্রতারণা করে আসছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে গাইনী অপারেশন থেকে শুরু করে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের সার্জারি গোপনে পরিচালনা করা হতো। ব্যবহৃত হতো মজুদ করা উচ্চক্ষমতার অ্যান্টিবায়োটিক ও নিষিদ্ধ ইনজেকশন। স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছিল এই অবৈধ চিকিৎসা ব্যবসা।
বুধবার (৬ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

তার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় মো. এহসান হাবীব ও সুকুমার দে–কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ সময় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
অভিযান শেষে তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে আর না জড়ানোর মুচলেকা নেওয়া হয়। ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
Leave a Reply