খাজা রাশেদ,লালমনিরহাট।। হঠাৎ করে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে,তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা।

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মঙ্গলবার রাতেই ভেঙে গেছে অন্তত তিনটি অস্থায়ী বাঁধ। এতে করে, জেলার ৫ টি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যাতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা, ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ-রাজপুর ইউনিয়নের মানুষজন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দোয়ানি পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বাড়তে থাকার কারণে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিতে বাধ্য হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে কিছুটা কমতে শুরু করে পানি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করতে পারে। এতে করে, লালমনিরহাটসহ নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে এবং বিকেল ৩টার মধ্যেই তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে। পরে,রাতের মধ্যেই ভেঙে যায় হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গীমারী ইউনিয়নের ধবুনী গ্রাম ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের পুর্ব ও উত্তরের তিনটি অস্থায়ী বাঁধ। ফলে,তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।এতে, তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি,ফসলি ক্ষেত ও জমি। রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেক এলাকা।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা রাতভর সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ঘুরে দেখেন ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে ত্রাণ ও বাঁধ রক্ষায় বালির বস্তা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “এখনো বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে,সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জলকপাটগুলো খোলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে,লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “জেলার বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।”
Leave a Reply