আনিসুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার: একটি ছোট্ট কাঁচাঘর। চারপাশে ভাঙা বেড়া, মাথার ওপরে টিনের চাল। সেই ঘরেই একসঙ্গে রাত কাটায় বিধবা মা, তার কিশোর পুত্র এবং ছোট মেয়ে। সময়ের সঙ্গে ছেলের গোঁফ গজাচ্ছে, মেয়েটিও বড় হচ্ছে—কিন্তু বাড়ছে না ঘরের পরিসর, বাড়ছে না নিরাপত্তা কিংবা স্বস্তি। লজ্জা, সংকোচ আর অনিশ্চয়তা নিয়ে চলে তাদের প্রতিটি দিন। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চেতনা গ্রামে থাকা ছকিনা বেওয়ার সংসারে নেই সঞ্চয়, নেই অবলম্বন—শুধু আছে একরাশ দায় আর জীবনের সঙ্গে প্রতিদিনের অসম লড়াই।

স্বামীর রেখে যাওয়া একটি ঘরেই ছেলে ও মেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন বিধবা ছকিনা বেওয়া।
প্রতিদিন সকাল হলেই ছুটে চলেন ছকিনা অন্যের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজে।বড়ছেলে সিদ্দিক নবম শ্রেণিতে ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার ৪র্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।এক দিকে দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ ও অপরদিকে সন্তানের খাবার জোগাতে হিমসিম খাচ্ছে ছকিনা বেওয়া।
আলোচিত ছকিনা বেওয়া রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের চেতনা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ছামাদ পাগলের দ্বিতীয় স্ত্রী। ছকিনা বেওয়া বলেন আমাদের কোন সঞ্চয় নেই, প্রতিদিন অন্যের বাড়ীতে কিংবা কৃষিকাজে শ্রম বিক্রিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। কাজ করতে পারলে ভালমন্দ খেতে পারি কাজ না জুটলে থাকতে উপোস। বড়ছেলে সিদ্দিক পড়াশোনা করে, সেও মাঝে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কৃষি কাজ করে। ছোট মেয়ে সাদিয়া আক্তার সে প্রাইমারিতে পড়ে। স্বামীর রেখে গেছে মাত্র সাড়ে তিন শতক জমি, তারও অর্ধেক আমার বড় সতিন পাবে।সরকার অসহায় মানুষের জন্য কতকিছু করে। হামরা কিছুই পাইনা।যুবক সন্তানসহ একই ঘরে থাকতে হয় বলতেও লজ্জা লাগে।
অভাবের সংসারে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হচ্ছে হামাক।এবিষয়ে ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছকিনার ছেলে সিদ্দিক বলেন আমি ক্লাস নাইনে পড়তেছি,আমার বোন ক্লাস ফোরে পড়ে।আমাদের পড়াশোনার খরচ ও খাবার যোগাতে মা হিমসিম খাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে গ্রামে কৃষি কাজে যাই।মা ও আমার দৈনন্দিন কাজের পারিশ্রমের টাকা সংসার চলে।আমাদের নেই আবাদি জমি। কিনে খেতে হয় নিয়মিত। যখন কেনার সামর্থ্য থাকেনা তখন মা ঝিয়ের কাজ করে যতটুকু খাবার নিয়ে আসে সেটাই ভাগ করে তিনজন খাই।
অসহায় ছকিনা বেওয়ার জীবনগল্প বিষয়টি শুনে সমবেদনা প্রকাশ করে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো আল ইমরান বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা রাখব ইনশাআল্লাহ।
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply