বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে ভেসে আসা জাহাজ নিয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎ ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতেই উধাও ২০ কার্টন খেজুর লালমনিরহাটে বিয়ের অঙ্গীকার করে অস্বীকা : সেনাসদস্যের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশনে তরুণী বিবিসি বাংলাকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাহদীর লিগ্যাল নোটিস জামায়াত নেতার ড্রয়িংরুমে মিলল মিনি পেট্রোল পাম্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হাদির সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয় চরফ্যাশনে ২৮৮ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড,‎ দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি প্রাথমিক বৃত্তিতে ৮০–২০% কোটা: মেধার স্বীকৃতি নাকি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বৈষম্যের সূচনা? ‎কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির প্রতিবাদ: পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পে নেতাদের জড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন
সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের দাবিতে  উত্তাল গাইবান্ধা

সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের দাবিতে  উত্তাল গাইবান্ধা

জাভেদ হোসেন,গাইবান্ধা: শিল্পায়ন ও টেকসই কর্মসংস্থানের দাবিতে গাইবান্ধার সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি তুলে ধরেন তারা।

‘সাঁকোয়া ব্রিজ ইপিজেড বাস্তবায়ন মঞ্চ, গাইবান্ধা’-র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট কুশলাশীষ চক্রবর্তী এবং আহ্বায়ক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাহাঙ্গীর কবির তনু, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামানিক, সুনীল রবিদাস, খিলন রবিদাস, আব্দুল হাই, মনির হোসেন সুইট, সাদেকুল ইসলাম, জিহাদ প্রধান, কাজী আব্দুল খালেক, সোমা ইসলাম ও কাজী আব্দুল ওয়াদুদ।

বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা আজ এক ‘পকেট শহর’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই, এবং সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহারে ঘাটতি রয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় ইপিজেড স্থাপন হলে শুধু গাইবান্ধা নয়, বরং সমগ্র উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি আমূল পরিবর্তিত হবে।

তারা জানান, গাইবান্ধার সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কাজী আনোয়ারুল হক এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য একটি সুপারিশপত্র প্রেরণ করেছিলেন, যা গাইবান্ধাবাসী সর্বসম্মতভাবে সমর্থন করেছিল। অথচ আজ কিছু প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে সেই প্রস্তাব বাতিল করে বিতর্কিত গোবিন্দগঞ্জের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের চেষ্টা চলছে, যা স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বিরোধ ও মানবিক প্রশ্নে ইতিমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ।

বক্তারা বলেন, সাঁকোয়া এলাকায় রেল, মহাসড়ক, নদীপথ এমনকি হেলিপ্যাড সুবিধাসহ একটি আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।

তারা বর্তমানে জেলা প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা করেছে, কিন্তু গাইবান্ধার ৯০ শতাংশ জনগণের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। একইসাথে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্সের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।

সমাবেশ থেকে যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়:
► সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকায় অবিলম্বে ইপিজেড স্থাপন
► বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ টানেল বা সেতু নির্মাণ
► গাইবান্ধায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ
► গ্যাস সংযোগ ও আধুনিক রেল সংযোগ
► সদর হাসপাতালের আধুনিকীকরণ ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন

বক্তারা আরো বলেন, “এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি গাইবান্ধার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা চাকরির জন্য ঢাকার দিকে ছুটে না গিয়ে নিজ এলাকাতেই কাজের সুযোগ পাক।”

তারা এই দাবিকে উন্নয়নের আন্দোলন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, সাঁকোয়া ব্রিজ এলাকাতেই গাইবান্ধার নতুন আশার পথ শুরু হোক।

জাভেদ/প্রবা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com