বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
দেশীয় ফলের বৈচিত্র্যে পঞ্চগড়ে শুরু জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ মাইকে ঘোষণা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, সড়কে মিলল হাত-পা বাঁধা মরদেহ বিরিয়ানির লোভে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ২ রেকর্ড টানা ১৪ বার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ব্রাজিল হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর ছাত্রদলের ‘হামলার’ প্রতিবাদ শিবিরের অর্পিত সম্পত্তি কাণ্ডের প্রশ্নে উত্তপ্ত সেই ভাইরাল ভিডিও, বাস্তবে কী ঘটেছিল? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একজন হারালেন চোখ, আরেকজনের মাথায় ৫ সেলাই সাংবাদিক হেনস্তার পর সাদুল্লাপুরের সেই এসিল্যান্ডকে পঞ্চগড়ের বোদায় বদলি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের একদিন পর যুবলীগ নেতার মৃত্যু মসজিদের ভেতর থেকে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, কক্ষে মিললো চিরকুট
ডিসি-এসপিরা ‘চিপায় পড়ে’ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন

ডিসি-এসপিরা ‘চিপায় পড়ে’ ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন

অনলাইন ডেস্ক: ছাত্রনেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপাররা (এসপি) পরিস্থিতির কারণে ভালো ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ডিসি-এসপিদের বলছি, আমরা জানি, আপনারা “চিপায় পড়ে” আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন। যদি হাসিনার পতন না হতো, তখন এই ডিসি-এসপিরাই গণভবনে প্রমোশনের জন্য লাইন ধরতেন।’

রোববার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহীতে জুলাই পদযাত্রা শেষে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিকদের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে হাসনাত বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকদের দেখছি। আমরা সাংবাদিকদের ওপরে নজর রাখছি। এই সাংবাদিকরাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার জন্য লেগেছিল।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের বলবো, বসুন্ধরার সাংবাদিকরা, বসুন্ধরার সাংবাদিক! খুনি হাসিনার পক্ষে এই বসুন্ধরার মিডিয়া কী বৈধতা উৎপাদন করেছে, আমরা ভুলে যাইনি। এই বসুন্ধরা গ্রুপের সাংবাদিকরা আবার নগ্ন হয়ে বৈধতা উৎপাদনের জন্য আবার লেগে পড়েছে। আবার আরেকটা ১/১১ ঘটাতে তারা ষড়যন্ত্র করছে।’

আন্দোলনে তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে হাসনাত বলেন, ‘এই তরুণ সমাজ আর দালালি করতে চায় না। কারও তাঁবেদার হতে চায় না। তরুণ সমাজ আর স্বৈরাচার হতে চায় না। সুতরাং, যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা জেনে রাখুন, আপনারা এই তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই জেন-জির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যখন দাড়িপাকা মুরুব্বিরা ফেইল করেছেন, বাবারা ফেইল করেছেন, তখন সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছে।’

এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আমরা কি জানি না, গত ১৬ বছর আপনাদের ব্যাংক কেমনে ছিল? আপনাদের ব্যবসা কেমনে ছিল? আমরা সব জানি। কাকে ভয় দেখান? আমাদের হারানোর কিছুই নাই। আমাদের লুটপাটের ব্যাংক নাই, যেটা আমরা হারাবো। আমাদের শুধু আছে ভালোবাসা মানুষের। আমরা সেটার জন্য রাস্তায় এসে আবার আমরা জীবন দেবো।

‘বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা বেঁচে থাকতে আর বাসা থেকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে গুম হতে দেওয়া যাবে না। কোনও মায়ের বুক আর খালি হবে না। কোনও ইলিয়াস আর হারিয়ে যাবে না। কোনও দেশপ্রেমিক সাংবাদিককে বিদেশে থাকতে হবে না।’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যারা প্রশাসনে আছেন, আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনারা ক্ষমতাপন্থি হবেন, আপনারা ভুল করছেন। আপনারা ভুলে যাবেন না, ১৬ বছরের ডিসি-এসপিদের কী পরিণতি হয়েছে। আপনারা ভুলে যাবেন না, এই দিন দিন না, আরও দিন আছে। আমরা আপনাদেরকে বলবো না, আপনারা এনসিপিপন্থি হোন, আওয়ামীপন্থি হোন। রাজনীতিপন্থি হওয়ার কী পরিণতি– সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই ডিসি-এসপিদের যদি কেউ স্বৈরাচারের পক্ষে অবস্থান করেন, যদি কেউ মিডনাইট ইলেকশনে সহযোগিতা করেন, এই বাংলাদেশে আর তার জায়গা হবে না।’

গোয়েন্দা সংস্থারও সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। বলেন, ‘রাষ্ট্রের এজেন্সিরা যারা রয়েছেন, বাংলাদেশের যারা গোয়েন্দা সংস্থা আছে তারা জানে না, বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র হয়। তারা জানে না, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে ফেলতে কী ষড়যন্ত্র হয়। যেটা করে, তারা ক্যান্টনমেন্টে বসে বসে রাজনৈতিক দল খোলে। তারা একটি রাজনৈতিক দলকে আরেকটা দলের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। আপনারা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আমরা আপনাদেরও দেখছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করিনি। সুতরাং, সংস্কার ছাড়া, বিচার ছাড়া যদি ভোটের যদি চেষ্টা করা হয়, আমাদের বুকের ওপর দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে হবে। আমরা নির্বাচন চাই, অবশ্যই চাই। তবে সেটা সংস্কারসহ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ। আবার দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য আপনারা প্রস্তুতি রাখুন।’

এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্যসচিব আখতার হোসাইন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com