ডেস্ক রিপোর্ট :: যশোরের মণিরামপুরে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মণিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াতে নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন গাজী এনামুল। বেঁধে দেওয়া সময়ে জড়িতের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ার দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বৃহস্পতিবার চারটি পয়েন্টে নিলামের মাধ্যমে হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রি করেন। পরে সেই মাটি বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। তবে এর মধ্যে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহত উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন দাবি করেন, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।
তবে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগে তরকারি বাজারে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের সালিমুন হোসেন ও আল মামুনকে আহত করেন। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে তাদের আরও ৮-১০ জন আহত হন।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারে ছাত্রদল কর্মী আসাদুজ্জামান সবুজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাধাঘাটা এলাকায় আনাস নামে এক শিবিরের কর্মী হামলায় আহত হন।

এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের দুর্বল ভাববেন না। অনেকেই জামায়াতকে নির্মূল করতে যেয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন; মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা দুর্বল নয়; আমরা আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক ও শান্তির দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে জামায়াতে ইসলামী।
মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনও পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply