খাইরুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রতিপুর গুচ্ছগ্রামে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার। গত দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামের চারপাশে হাঁটু পানি জমে আছে। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, পয়নিষ্কাশনের নোংরা পানি মিশে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুসহ গবাদিপশুদের রাখা হয়েছে উঁচু স্থানে। এই জলাবদ্ধতায় গুচ্ছগ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হেম্মত আলী বলেন, “আমি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করি, এখন কয়েকদিন ধরে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। গরিব মানুষ, ঘর পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখন এমন অবস্থা যে কোথাও যেতে পারছি না।”
সাজেদা বেগম বলেন, “কয়েকদিন হলো চুলায় রান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
চুমকি বেগম বলেন, “আমার দুই মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। কয়েকদিন ধরে পানি আর কাঁদার কারণে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ছোট বাচ্চা মেয়েকে কীভাবে পাঠাই স্কুলে?”

নুরেজা বেগম, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, বলেন, “আমি চোখে দেখি না বাবা। এই পানিতে বের হতে পারি না। কখন পড়ে যাই, পোকা-মাকড় কামড়ায়—এই ভয় সবসময় কাজ করে।”
সাঞ্জুমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই অবস্থা দুই সপ্তাহ হয়ে গেলো, কিন্তু কেউ খোঁজ নিতে আসেনি।”
আমড়া ব্যবসায়ী হজরত আলী বলেন, “সবকিছু হারিয়ে এখানে এসে বসবাস করছি। এখন এই পানিবন্দি অবস্থায় বউ-বাচ্চা রেখে বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। আগে এখানে একটা ব্রিজ ছিল, এখন সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনুরোধ করি, পানি বের করে দিয়ে আমাদের উদ্ধার করুন।”
গোলাপি বেগম বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই। এখন কাজেও যেতে পারছি না, রান্নাও হচ্ছে না। না খেয়ে জীবন কাটছে।”

রতিপুর গুচ্ছগ্রামে মোট ৫৩টি পরিবার বসবাস করে। এরমধ্যে ৯টি পরিবার পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের জীবন কার্যত থমকে গেছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত দাস বলেন, “আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
পানিবন্দি পরিবারগুলো দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Leave a Reply