বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
‎লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সুযোগ দিলেন ওসি লালমনিরহাটে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সামাজিক সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত এককালীন ২০ লাখ, মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু লালমনিরহাটের মহিষখোচাঁয়  ৫৯১ মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে, যাকাত তহবিল হস্তান্তর পরিকল্পিত সন্ত্রাসে দেশ অস্থিতিশীলের ষড়যন্ত্র, সুন্দরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে ৭ বছরের ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই
টানা বৃষ্টির প্রভাবে ফেনীতে নেই বিদ্যুৎ, বন্ধ মোবাইল নেটওয়ার্ক

টানা বৃষ্টির প্রভাবে ফেনীতে নেই বিদ্যুৎ, বন্ধ মোবাইল নেটওয়ার্ক

ফেনী প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া এবং সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

দুই উপজেলার কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, মিটার ও ট্রান্সফরমার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ৩১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করছে ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যানচলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

সিসা কারখানায় অভিযান, ৬ জনের কারাদণ্ড
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, পরশুরামের ১২টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৯টিসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মোট ২১টি স্থান ভেঙে গেছে। তার মধ্যে মুহুরী নদীর ১১টি, কহুয়া নদীর ৬টি ও সিলোনিয়া নদীর চার জায়গায় ভাঙনে ১০০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত ছয় হাজার ৮২৬ জন অবস্থান করছেন। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতোমধ্যে ৯০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন।

ফুলগাজীর বাসিন্দারা জানান, নদীতে পানি কমলেও ভাঙন স্থান দিয়ে তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। গলা সমান পানিতে বের হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় আরও বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাড়িতে পানিবন্দি থাকলেও কোনো ধরনের খাবার বা প্রশাসনিক সহায়তা পাইনি।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, জেলায় টানা তিন দিন ধরে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও জেলাজুড়ে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, রাত ১১টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি কমার পরেই বাঁধ মেরামতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবল চাকমা বলেন, মাঠপর্যায়ে থেকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। উপজেলায় ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ছয় উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com