চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি॥ মাত্র ২ দিন বয়সী সন্তানটি কোলে নেই, তবুও চোখে অদম্য সাহস। কলম হাতে পরীক্ষাকক্ষে ছুটে গেলেন তরুণী এক মা। অন্যদিকে, সন্তানটি ঠাঁই পেয়েছে নানির আদরে। মা হিসেবে দায়িত্ব, আর শিক্ষার্থী হিসেবে ভবিষ্যতের লড়াই—দুয়ের ভার একসঙ্গে বয়ে চলেছেন তিনি। ভোলার চরফ্যাশনে একটি কেন্দ্রে এমন বিরল ও অনুপ্রেরণামূলক চিত্র দেখে মুগ্ধ সবাই।

সদ্য সন্তানের মা হওয়া মেয়েটির দৃঢ় ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে পরীক্ষা কক্ষে মেয়ের পরীক্ষা চলাকালে নাতনিকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছেন নানি।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে চরফ্যাশন ফাতেমা মতিন মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে এমন এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
জানতে চাইলে তিনি জানান, তার মেয়ে ফাবিহা খানমের সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসে আছেন তিনি। এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে নবজাতকের মা।

জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাবিহা খানম উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো.মাকসুদ খানের মেয়ে। গত দেড় বছর আগে একই উপজেলার জাহিদুল ইসলাম সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরীক্ষা শুরুর ২ দিন আগে গত মঙ্গলবার কন্যা সন্তানের মা হয় ফাবিহা। এরপর ২ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ফাবিহা খানম চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থীর মা ও শিশুটির নানি খাজিদা বেগম বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে আমার মেয়ের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী এলাকার জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। সন্তানসম্ভবা থাকা অবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করেছে। আমার মেয়ে গর্ভকালেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক ২ দিন আগে, গত মঙ্গলবার, তিনি জন্ম দেন একটি কন্যা সন্তান। নবজাতককে নিয়েই বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ফাবিহা।ওর ইচ্ছা ছিল, পরীক্ষাটা দিতেই হবে। আমরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও ওর সাহস আর ইচ্ছার কাছে হার মেনেছি। তাই আজ নাতনিকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি।

পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রফেসর মোহাম্মদ উল্লাহ স্বপ্ন জানান, সারা দেশে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন পরীক্ষা চলাকালে হলের সামনে বাহিরে এক নারীকে শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জানতে পারি, নবজাতকটি একজন পরীক্ষার্থীর। পরে আমরা খালি একটি কক্ষের ব্যবস্থা করে দেই যেন তারা কিছুটা আরামে থাকতে পারেন। অল্প বয়সে সন্তানের মা হলেও পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহের বিষয়টি আমাদেরকে আশান্বিত করেছে।
এই ঘটনায় কেন্দ্রের শিক্ষক-পর্যবেক্ষকরাও আবেগাপ্লুত। তারা জানান, অল্প বয়সে সন্তানের মা হওয়া ফাবিহার পড়াশোনার প্রতি এমন অটল আগ্রহ আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
Leave a Reply