বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশিক্ষণের নামে বিদেশে পলাতক, কাস্টমস কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান বরখাস্ত পঞ্চগড়ে মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালতের বেঞ্চে আসামির মৃত্যু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে লালমনিরহাটে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা আ.লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ অভিযোগ দেওয়ায় থানার সামনেই অভিযোগকারীর ওপর হামলা, আটক ৩ এবার গাইবান্ধায় কিশোর হত্যার জেরে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে বিতর্ক, কালিয়াকৈরের কাজী অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নিয়ম ভেঙে আগেভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষা, পঞ্চগড়ে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পঞ্চগড়ে ২৭ বোতল ফেনসিডিল ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক ১
দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে বিতর্ক, কালিয়াকৈরের কাজী অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে বিতর্ক, কালিয়াকৈরের কাজী অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মো. সাহাজুদ্দিন সরকার,গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকার একটি কাজী অফিসে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইটি পরিবারের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, বিবাহ নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি নাও হতে পারত।

জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হাফিজার রহমানের ছেলে তাহের (৩৮) এবং একই উপজেলার মৃত শেখ সাদীর মেয়ে শারমীন (৩৫) প্রায় ১৬ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং তাদের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছর তাহের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত খাদিজা নামের এক নারীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

প্রথম স্ত্রী শারমীন বলেন, “আমি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সংসার করছি। আমাদের একটি সন্তান রয়েছে। হঠাৎ করেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি আমার সংসার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।”

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাবিননামায় কালিয়াকৈর পৌরসভার ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী ইসমাইল হোসেনের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। অন্যদিকে, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘ওয়াহেদ কাজী’ নামের সাইনবোর্ডযুক্ত একটি অফিসে বিয়ে নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিবন্ধনের সময় অফিসে সংশ্লিষ্ট কাজী উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে রশিদ নামের একজন ব্যক্তি পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দুই পরিবারের সদস্যরা সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের বিতর্ক ও পারিবারিক জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

ভুক্তভোগীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com