মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:: শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধ চত্তরে স্মৃতি ফলকে পুষ্প অর্পনের পরে মুক্তিযুদ্ধ চত্তরে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ৭১ এর বধ্য ভুমিতে পুস্প অর্পনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়।

সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাখফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস)মো. ফরহাদ হোসেন ,পঞ্চগড় জেল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন প্রধান,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:ইসমাইল হোসেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইখুল ইসলামসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।
উল্লেখ্য,৭১’র এই দিনে মুক্তিকামী জনতা কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়কে ২৯শে নভেম্বর ভোরে পাকিস্তান হানাদারকে পরাজিত করে মুক্ত করেছিলেন।

চারদিক থেকে ২৮শে নভেম্বর রাতে পাক বাহিনীর উপর মুক্তি, মিত্র, ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীর ঝড়ো আক্রমণের ফলে পাক বাহিনী পঞ্চগড়ের মাটি ছেড়ে চলে গেলে লাল সবুজের পতাকা উড়ান মুক্তিযোদ্ধারা।মুক্তিকামি মুক্তিযোদ্ধা এবং পঞ্চগড়ের আপামর জনসাধারনের জন্য তাই এই দিনটি আনন্দের। মুক্তিযোদ্ধা চত্বর ও জেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ৭১ এর বধ্য ভ‚মিতে পুস্প অর্পনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ই এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। পরবর্তিকালে জেলার ৪ থানা দেবীগঞ্জ,বোদা,আটোয়ারী,পঞ্চগড় তারা দখলে নিলেও অমরখানায় ব্রিজটি মুক্তিযোদ্ধারা বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়ায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া মুক্ত ছিল। মুক্ত অঞ্চল থাকায় তেঁতুলিয়া সকল কর্মকান্ডের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই বসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২৮শে নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে পাকবাহিনীর উপর ঝড়ো আক্রমণ করেন।
এ আক্রমণে পঞ্চগড় শহরের পূর্বদিকে ডিফেন্স নিয়ে থাকা পাকবাহিনী টিকতে না পেরে টুনিরহাট দেবীগঞ্জ ভায়া ডোমার হয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে সৈয়দপুর অভিমুখে পিছু হটতে থাকে পাক সেনারা।

ওইদিন রাতে মুক্তি, মিত্র, ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীর সম্মিলিত সাড়াশি আক্রমণে পরাজিত হয়ে পাক বাহিনী পঞ্চগড়ের মাটি ছেড়ে চলে গেলে ২৯শে নভেম্বর ভোরে পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত হয়। এদিন পাকবাহিনীর সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় শতাধিক মিত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হন এবং আহত হন অনেক মুক্তিযোদ্ধা।
Leave a Reply