বিজ্ঞাপন:
 
“মৃত বলে গুজব, লাশ খোঁজাখুঁজি-শেষমেশ জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন শাহীন” গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্য

“মৃত বলে গুজব, লাশ খোঁজাখুঁজি-শেষমেশ জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন শাহীন” গোয়াইনঘাটে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি :দুই মাস ধরে যাকে মৃত ধরে নিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল, সেই ওমান প্রবাসী শাহীন আহমদ হঠাৎই গতকাল জীবিত অবস্থায় ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে ফোন দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে গোয়াইনঘাটে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের অবসান হলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে-কাদের ছবি ভাইরাল হয়েছিল, আর কেনো?
গত দুই মাস আগে ওমান প্রবাসী গোয়াইনঘাটের পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের হাতিরপাড়া গ্রামের মো: ইসরাইল আলীর ছেলে শাহীন আহমদ (২৫) কে মৃত বলে দাবী করে একটি ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

মৃতদেহের ছবিটি এতটাই শাহীনের সাথে মিল ছিল যে পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষ-সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে শোক আর বিভ্রান্তি।

পরিবার ছুটে যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে, যোগাযোগ করে ওমানের হাসপাতাল, প্রবাসী সংগঠন, এমনকি দূতাবাসেও।
কিন্তু কোথাও থেকে মিলেনি ছবিটির উৎস, কিংবা মৃত ব্যক্তির পরিচয়।

দিন গড়ায়, উদ্বেগ বাড়তে থাকে-
কিন্তু শাহীনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

কিন্তু গতকাল ২৭ নভেম্বর সকালে ঘটে নাটকীয় ঘটনা।
পরিবারের মোবাইলে সকাল ৯টার দিকে আসে একটি কল-ফোন করেছেন স্বয়ং শাহীন আহমদ, সরাসরি ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে!
তিনি জানান তিনি সম্পূর্ণ জীবিত, সুস্থ এবং দেশে পৌঁছেছেন।
প্রথমে বিষয়টি পরিবার বিশ্বাস করতে পারেনি।পরপর বাবা ও ভাই ভিডিও কলে কথা বলেই নিশ্চিত হন।যাকে দুই মাস ধরে মৃত ভেবে কাঁদছিলেন,সে-ই তাদের শাহীন।

ফোন পাওয়ার পর কান্না, স্বস্তি, আবেগ-সবই মিশে যায় একসাথে।
পরিবার দ্রুত তাকে বাড়িতে আনার উদ্যোগ নেয় এবং আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে বাড়ি ফেরেন শাহীন।

শাহীনের সাথে কথা হলে জানা যায় তিনি ওমানের মাসকাট শহরে একটি জেলে যোগাযোগ বিহীন দীর্ঘ ৩ মাস ২৩ দিন বন্ধি অবস্থায় ছিলেন,কাগজ পত্রের জটিলতার কারণে তাকে আঠক করা হয় এবং জেলে কারাবরণ করতে হয়,সবশেষ ওমান এ্যাম্ব্যাসির সহযোগিতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছালে পরিবারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার পর নিরাপদে আজ সকালেই বাড়ি ফেরেন তিনি।শাহীনের মানসিক অবস্থা বিপর্যস্থ হওয়ার কারণে বেশি কিছু জানা যায় নি।

এখনো রহস্য: কে ছিল ভাইরাল ছবির ব্যক্তি?
সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটি আসলে কার? কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো,এখনও কোনো উত্তর নেই।
শাহীন আহমদকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া পরিবারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বিষয়। তবে এই ঘটনার পর সোস্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং মানুষের মানসিক বিপর্যস্ততার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এলো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com