বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে মাদক ও চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৩ লালমনিরহাটে ১০ দিনের নবজাতক বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার,এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা; ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি চোরকে চিনে ফেলায় র‌্যাব সদস্যের স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বর্ণালঙ্কার লুট প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ আনাস পঞ্চগড়ে জনবল কাঠামো নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও’র দাবিতে মানববন্ধন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে এদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না: ড. মাসুদ ৩৫ ফুটের গর্তে পড়া ২ বছরের শিশুটি ১০ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবিতে গর্জে উঠলো গাইবান্ধা, প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবিতে গর্জে উঠলো গাইবান্ধা, প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কার্যক্রম শুরু করতে হবে—এই দাবিতে রোববার (৫ অক্টোবর) গাইবান্ধায় পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন গাইবান্ধা জেলা কমিটি।

“জাগো বাহে, জাগো—তিস্তা বাঁচাও” শ্লোগানে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা শেষে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নির্দেশনায় তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসাবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক মাহমুদ প্রমূখ।

এ সময় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমেদ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের প্রাণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার এবং পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ার কারণে তিস্তা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষ আজ মারাত্মক সংকটে। পানির অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তীব্র নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম, বসতি ও কৃষিজমি। ফলে গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে দারিদ্র্য ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা স্মারকলিপিতে বলেন— “আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হোক। প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব কোষাগার থেকে বরাদ্দ রাখা ২,৪১৫ কোটি টাকা দিয়েই কাজের শুভ সূচনা সম্ভব। নির্বাচিত সরকার পরে এ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।”

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রথম ধাপে (৫ বছর মেয়াদে) ব্যয় হবে ৯,১৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬,৭০০ কোটি টাকা চীনের ঋণ সহযোগিতায় এবং বাকিটা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক অভিযোগ করে বলেন, আগের ফ্যাসিবাদ সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরো বলেন— “আমরা আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি চাই না। তিস্তার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এবার বাস্তবায়নের সময় এসেছে।”

এর আগে চলতি বছরের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে ১১৫ কিলোমিটার জুড়ে তিস্তার দুই তীরে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে তিস্তা পাড়ের ৫ জেলার লাখো মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির সমাপনীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আন্দোলনের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক মাহমুদ বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের প্রাণরেখা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।”

প্রবা/আরইসআর


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com