বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে পৌর ছাত্রদলের মিছিল প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন এনসিপি নেতা কালিয়াকৈরে বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ব্যবসায়ীকে মারধর ও থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসির বিভাগীয় শাস্তির দাবি লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ১৫ দিনে একবার দেখা! অতিরিক্ত বন্দীতে স্বজনদের দুর্ভোগ কালিয়াকৈরে চাঞ্চল্যকর আজিবুর রহমান হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার। লালমনিরহাটে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার- ৩৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত গাইবান্ধার সদর উপজেলায় বাদিয়াখালীতে ট্রেনের নিচে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু মাদকসেবনের সময় আটক ২, পুকুর পরিষ্কার করালেন স্থানীয়রা পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন, জড়িতদের শাস্তির দাবি
বসতভিটা বিক্রি করে সৌদি গিয়েছিলেন গাইবান্ধার রানা, ফিরলেন লাশ হয়ে

বসতভিটা বিক্রি করে সৌদি গিয়েছিলেন গাইবান্ধার রানা, ফিরলেন লাশ হয়ে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রানা মিয়া (৩৫)। কিন্তু দেড় বছরের মাথায় তিনি ফিরলেন লাশ হয়ে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়ি পলুপাড়ায় নেওয়া হলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রানা মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের পলুপাড়া গ্রামের মৃত জামেদ আলীর ছেলে। সংসারের উন্নতির আশায় তিনি প্রায় ছয় শতক বসতভিটা ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের গোবিন্দগঞ্জ শাখা থেকে নেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ। এরপর স্থানীয় দালাল শিবপুর ইউনিয়নের সেলিম মিয়ার মাধ্যমে দেড় বছর আগে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।

বিদেশে গিয়ে রানা মিয়া বুঝতে পারেন, তাকে ভালো কোনো কোম্পানিতে চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ভিসায় কাজের সুযোগ সীমিত থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে দালাল চক্রের অধীনে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে থাকেন। কিন্তু কষ্টের বিনিময়ে উপার্জিত টাকাও হাতিয়ে নেয় ওই দালাল চক্র।

অসহায় হয়ে তিনি একাধিকবার স্থানীয় দালাল সেলিমের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। অবশেষে বাড়ি থেকে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে আরও ৬০ হাজার টাকা ধার করে এক ব্যক্তির অধীনে মোটরসাইকেলে ফুড ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফুড ডেলিভারির সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন রানা মিয়া। তার মৃত্যুর খবরে শোকের মাতম নেমে আসে গ্রামে।

রানা মিয়ার স্ত্রী আরেফা বেগম, ১১ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আরাফাত ও পাঁচ বছরের শিশু ছেলে রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে বড় ভাইয়ের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।

শোকে কাতর হয়ে আরেফা বেগম বলেন, ‘ভেবেছিলাম কষ্ট হলেও স্বামী টাকা উপার্জন করে ফিরবে। হয়তো আবার বসতভিটা কিনে সংসারে সুখ ফিরবে। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি শুধু প্রতারক দালালের বিচার চাই। পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।’

স্থানীয়রা দাবি, প্রতারক দালালদের কারণে প্রতি বছর অনেক পরিবার পথে বসছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com