মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, সংবিধান সংস্কার, গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে শুরু থেকে সব প্রক্রিয়ায় একমত থাকলেও সরকার গঠনের পর এখন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তিনি একে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেন।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদে এনসিপি ছাড়া সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ জারির পর একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় চার মাস বিএনপি কোনো আপত্তি না তুললেও সরকার গঠনের পর তারা সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে অবস্থান বদলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তারাই এখন গণভোটের বৈধতা অস্বীকার করছেন। অথচ জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
সংবিধান সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান থাকতে না পারা, উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে আলাদা সার্চ কমিটি গঠন এবং বিচারপতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছামতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি করতে পারে।
আগামী সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, সহিংসতা চাই না। সংসদের ভেতর থেকেই গঠনমূলক উপায়ে সমাধান চাই।”

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি—এই প্রশ্নের জবাব বিএনপিকেই দিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি নেতারা জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল বিএনপির অনুরোধেই, কারণ সে সময় দলটির নিবন্ধন ছিল না এবং জোটগত সম্পর্কের কারণেই এক প্রতীকে ভোট করা হয়েছিল।
Leave a Reply