চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি।। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় সুরমা ষ্টোর নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের কর্মচারীকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রোমান ও যুবদল নেতা আল মামুন হাজারী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শশীভূষণ বাজারের মেইন সড়কের পাশে অবস্থিত ওই মুদি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে রসুলপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রোমান ও একই ওয়ার্ডের সাদেক মাষ্টারের ছেলে রসুলপুর ইউনিয়ন যুবদল কর্মী আল মামুন হাজারী সহ তাদের সহযোগীরা মুদি ব্যবসায়ী একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিয়াকত আলীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সুরমা ষ্টোর মুদি দোকানে তালা দেন। এ সময় দোকানের জাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামে এক কর্মচারীকে মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানের সামনে কয়েক ট্রাক বালু ফেলে দোকানটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বলেন, ছাত্রদল নেতা রোমান ও তার বাবা শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমার সুরমা ষ্টোর মুদি দোকান থেকে মালামাল নেন। রোমানের কাছে আমার ৪০ হাজার টাকা এবং তার বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছি। আমি পাওনা টাকা চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো তারা বলেন, বাজারে ব্যবসা করতে হলে আরও টাকা দিতে হবে, না হলে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং মালামাল ফেলে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রোমান আমার কাছে সরাসরি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং আমাকে হুমকি দেন। পরে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। মঙ্গলবার আদালত থেকে নোটিশ আসার পর রোমান ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দোকানের কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম জিহাদকে মারধর করে বের করে দেন, দোকানে তালা লাগান এবং দোকানের সামনে কয়েক ট্রাক বালু ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঘটনার সময় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। দোকানের সামনে বালু ফেলে পুরো এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ওই ব্যবসায়ী নন, আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রোমান দোকান ঘরে তালা ও বালি ফেলানের কথা স্বীকার করে বলেন,ঘরটি আমাদের মালিকানাধীন, লিয়াকত আলী ভাড়া নিয়ে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পহেলা বৈশাখে ঘরটি ছেড়ে দিতে বলায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার দোকানের কর্মচারীকে মারধর এবং চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
শশীভূষণ থানার (ওসি) ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply