খাজা রাশেদ,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের (মাতৃমঙ্গল) অফিস সহকারী মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন। এ কারণে কেন্দ্রের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অতিষ্ঠ হলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৮ সালে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে যোগ দেন মনোয়ারা বেগম। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি অফিসের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপরও নিয়ন্ত্রণ নেন। স্টাফদের বেতন, টিএ বিলসহ বিভিন্ন ভাতা ও বরাদ্দ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, বেতন ও বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ বা কমিশন দিতে হয়। এমনকি পোশাক, কপারটি, স্যাটেলাইট বিলসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ প্রদানে নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখেন তিনি। এ নিয়ে একাধিকবার স্টাফদের সঙ্গে তার বিরোধও হয়েছে।
এছাড়া, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা, ওষুধপত্র সরবরাহ এবং যানবাহনের তেল বাবদ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি অর্থ উত্তোলন করে নিজের ইচ্ছামতো পরিশোধ করেছেন।

সম্প্রতি তাকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে বদলি করা হলেও এখনও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বসে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অনেকেই বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী জানান, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি নানা উপায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। এমনকি ব্যক্তিগত স্বার্থে ঋণ তুলে দেননি অনেক সময়। তার কারণে অফিসে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, “আমি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে বদলি হয়েছি। তবে কিছু অডিট ও বকেয়া কাজ শেষ করতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসি। দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply