গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজের বিরুদ্ধে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করানোর নাম করে একাধিক প্রার্থী থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অপহরণ চেষ্টার গুঞ্জনও এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সিরাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিরাজুল একটি বৈঠকে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিষয় স্বীকার করছেন। এ ঘটনার পর সাদুল্লাপুর উপজেলার দুইজন শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থী উপজেলা ও জেলা জামায়াতের আমিরদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম শিক্ষক নিবন্ধনের পরীক্ষায় পাস করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। তবে দলের নেতাদের মধ্যস্থতায় কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, সিরাজুল তার কাছ থেকে শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেন এবং পরে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে টাকা ফেরত চাওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল হাদীও ৭৫ হাজার টাকার চুক্তির বিনিময়ে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং দলীয় হস্তক্ষেপে টাকা ফেরত পেয়েছেন।
অপর দিকে, ৮ জুলাই সিরাজুল ইসলাম ২০-২৫ জনকে নিয়ে জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া গ্রামের মফিজল হকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ছেলে তাজুল ইসলামকে অপহরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অপহরণ চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ করেন তাজুল ইসলাম।

গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রোকনুজ্জামান রোকন জানান, বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ এবং অভিযোগসমূহ মীমাংসা করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সিরাজুল ইসলাম কোনও টাকা গ্রহণ করেননি এবং তিনি কেবল মধ্যস্থতার কাজ করেছেন।
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি কখনো টাকা নিইনি। সরকারি চাকরির বিষয়টি আমার দলে দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা। আমাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বানানো হচ্ছে।”
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply