বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সুযোগ দিলেন ওসি লালমনিরহাটে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সামাজিক সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত এককালীন ২০ লাখ, মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু লালমনিরহাটের মহিষখোচাঁয়  ৫৯১ মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে, যাকাত তহবিল হস্তান্তর পরিকল্পিত সন্ত্রাসে দেশ অস্থিতিশীলের ষড়যন্ত্র, সুন্দরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে ৭ বছরের ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই ‎গাজীপুর সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে কাশিমপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে পৌর ছাত্রদলের মিছিল
আজ ছিল মায়ের অপারেশন, তুহিন বাড়িতে ফিরলো রক্তমাখা লাশ হয়ে!

আজ ছিল মায়ের অপারেশন, তুহিন বাড়িতে ফিরলো রক্তমাখা লাশ হয়ে!

ময়মমনসিংহ প্রতিনিধি: বৃদ্ধ মা সাবিয়া খাতুন বকুলের (৮০) চোখ অপারেশন করার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার বাবা হাসান জামালের (৯০) মোবাইল একাউন্টে এক হাজার টাকা পাঠান হাত খরচের জন্য। শুক্রবার (৮ আগষ্ট) গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়ীতে আসার কথা ছিল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের। তুহিন আসলো ঠিক, কিন্ত লাশ হয়ে।

পরিবারে চলছে নিয়ে চলছে শোকের মাতম। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে গ্রামটিতে। সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে তার নিজ উপজেলা ফুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাব মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে জেলা উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সরেজমিন নিহত সাংবাদিক তুহিনের গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা গেছে, বৃদ্ধ মা সাবিয়া খাতুন বকুল ও বৃদ্ধা বাবা হাসান জামাল ছেলের শোকে বারান্দায় বসে বিলাপ করছেন। কখন ছেলের লাশ আসবে বারবার জিজ্ঞেস করছেন তারা। গ্রামের মানুষ বৃদ্ধা বাবা মাকে শান্তনা দিতে এসে তারাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। পুরো গ্রামে চলছে শোকের মাতম।।

সাংবাদিক তুহিন ছিল ৫ ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। নিহত তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন ১৫ বছর আগে মারা যান। আলম, সেলিম শাহজাহান জীবিকার তাগিদে গ্রামের বাইরে বসবাস করেন। দরিদ্র পরিবারের ছেলে আসাদুজ্জামান তুহিন জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন। গাজীপুরে একটি বেসরকারী হাসপাতালের পার্টনারশীপ রয়েছে তার। প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ নামের একটি পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করতেন। বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ বাবা মাকে তিনিই দেখা শুনা করতেন বলে জানান নিহত তুহিনের ভাবী জোহরা খাতুন।

তিনি জানাান, নিহত সাংবাদিক তুহিনের তৌকিব (৭) ও ফাহিম (২) নামে অবুঝ শিশু সন্তান রয়েছে। তার বৃদ্ধা মাকে গাজীপুর নিয়ে গিয়ে চোখ অপারেশন করার জন্য শুক্রবার (৮ আগষ্ট) বাড়ীতে আসার কথা ছিল সাংবাদিক তুনিনের। সাংবাদিক তুহিন বাড়িতে এসেছেন ঠিকই সকলকে কাঁদিয়ে লাশ হয়ে। দরিদ্র পরিবারটিকে এখন কে দেখবে বলে আঁচলে চোখ মুচলেন জোহুরা।

চোখে কম দেখা ও কানে কম শুনা তুহিনের বৃদ্ধা মা ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বৃদ্ধ বাবা হাসান জামাল ছেলের শোকে পাথর পাথর হয়ে গেছেন। শুধু বারবার জিজ্ঞেস করছেন কখন তার ছেলের লাশ আসবে বাড়িতে। বাবা হাসান জামালের চোখের জলে আগত মানুষের চোখে জল ঝরছে। তিনি বয়সের ভারে বেশি কথা না বলতে পারলেও তার সন্তান সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার চেয়ে কেঁদেছেন।।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগষ্ট) রাত ৮ টার দিকে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্তরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com