লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী- কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের পক্ষ থেকে বিতরণকৃত, ত্রাণের ঢেউটিন নিয়ে, দধি প্রসাদ বর্মন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানা গেছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে, প্রকৃত সত্য গোপন করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
পাকা বাড়ি নয়, ভাঙা ঘরেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন দধি প্রসাদ বর্মন নামের ওই ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দধি প্রসাদ বর্মনকে ‘পাকা বাড়ির মালিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তিনি একটি জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা টিনের ঘরে সপরিবারে বসবাস করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, তার থাকার ঘরটির টিন পুরোনো এবং মরিচা ধরা, যার অনেক জায়গায় বড় বড় ছিদ্র রয়েছে। বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যায়। রিপোর্টে যে পাকা বাড়িটির ছবি বা তথ্য প্রচার করা হয়েছে, সেটি মূলত বৃদ্ধ দধি প্রসাদ বর্মনের ছেলের বাড়ি। তার ছেলে নিজের উপার্জনে সেই ঘর তৈরি করেছেন, যেখানে দধি প্রসাদ থাকেন না।
উল্লেখ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও জরাজীর্ণ ঘরের মালিকদের জন্যই এই অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দধি প্রসাদের বর্তমান ঘরের শোচনীয় অবস্থা বিবেচনা করেই, স্থানীয় সাংসদ প্রতিনিধির মাধ্যমে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। দধি প্রসাদ বর্মন পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক , সেটি নিতান্তই ক্ষুদ্র আয়ের একটি মাধ্যম। যা দিয়ে বর্তমান বাজারে জীবন চালানোই কষ্টকর, ঘর মেরামত করা সম্ভব নয়।
ভাদাই ইউনিয়নের কয়েকজন সাধারণ বাসিন্দা জানান, দধি প্রসাদ বর্মন একজন সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। তার রাজনৈতিক পরিচয়কে (ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি) সামনে এনে, এবং তার ছেলের সাফল্যকে তার ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে ‘প্রভাবশালী’ তকমা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন “ছেলের অট্টালিকা থাকলেও বাবার ভাঙা ঘরের দুঃখ মোচন হয় না। দধি প্রসাদের ঘরটি মেরামতের খুবই প্রয়োজন ছিল। তাকে টিন দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।”
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ বিতরণের তালিকাটি করা হয়েছে বাস্তুচ্যুত বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কেউ কেউ এই মানবিক সহায়তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করলে তা দুঃখজনক।
প্রকৃত সত্য এই যে, দধি প্রসাদ বর্মন একজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তার এক কন্যাকে সম্প্রতি বিয়ে দিয়েছেন। তার ঘরে অসুস্থ স্ত্রী রয়েছেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ীই ত্রাণ পেয়েছেন। তার ছেলের পাকা বাড়ির সাথে তাকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
Leave a Reply