মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চগড় জেলা শহরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাবেদ উমর জয় (১৯) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো শহর। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চৌরঙ্গী মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চৌরঙ্গী মোড়সহ আশপাশের সড়কে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে করতোয়া সেতু থেকে মিলগেট বাজার এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে তেতুঁলিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা সাধারণ মানুষকেও চলাচলে বাধা দেন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধ চলাকালে পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পঞ্চগড় জেলা শহরের সিনেমা হল মার্কেটের সামনে জাবেদ উমর জয়কে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত জয় জেলার পুরাতন ক্যাম্প এলাকার জহিরুল হকের ছেলে এবং তিনি ছাত্রদলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হামলা হয়েছে। নতুনবস্তি এলাকার আল আমিন, পারভেজসহ আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানা গেছে।
নিহতের ভাই আশরাফ জানান, তিনজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে জয়কে খুঁজছিল। পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার দাবি করেন তিনি।
অবরোধ চলাকালে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরাও জয়ের মৃত্যুতে শোকাহত। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই অন্যদের গ্রেফতার করা হবে।”

তার আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন এবং একটি মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন। সেখানে তারা জেলা প্রশাসক সাবেত আলীর কাছে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
জয়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ দুপুরে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, তার পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষত ছিল এবং এক হাতে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
Leave a Reply