লালমনিরহাট ও বরিশাল প্রতিনিধি: শুরুটা হয়েছিল বিগত স্বৈরশাসনের সময়। এরপর দীর্ঘ এক দশক ধরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমীকে নিজের বেহায়াপনার আখড়া বানিয়ে রেখেছিলেন বরিশালের তৎকালীন এবং লালমনিরহাটের বর্তমান জেলা কালচারাল অফিসার মোহাম্মাদ হাসানুর রশীদ মাকসুদ—ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সাবেক ক্যাডার। নিয়ম-নীতি, সরকারি বিধি-বিধান কিংবা নৈতিকতার প্রতি তাঁর ছিল ঘৃণাভরা অবজ্ঞা।

লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. হাসানুর রশিদের নানা ঘটনা ও অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার জন্ম দিয়ে আসছে। কয়েক মাস আগে লালমনিরহাটে বদলি হয়ে আসলেও, বরিশালের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাকে ঘিরে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি।
দায়িত্বকালীন সময়ে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। তাঁদের ভাষ্যমতে, তৎকালীন সময়ে সাংগঠনিক পক্ষপাত, সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব এবং ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগ সেই সময় ঘরোয়া মহলে আলোচিত ছিল। কারও ব্যক্তিজীবন বিচার করা যেমন অনুচিত, তেমনি এসব অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
অফিসিয়াল কর্মকাণ্ড ছাড়াও তার ব্যক্তিজীবন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। একাধিক বৈবাহিক সম্পর্ক এবং সেসব ঘিরে পারিবারিক বিরোধের কথাও স্থানীয় মহলে আলোচিত হয়। যদিও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তার সরকারি ফোন নম্বরে (০১৭১১-৯৬৩২২৭) একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় শিল্পীদের আশঙ্কা, পুরনো সংশ্লিষ্টতা কাজে লাগিয়ে হয়তো আবারও তাকে বরিশালে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনিক কোনো নিশ্চয়তা বা ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
বরিশালের এক প্রবীণ নাট্যকর্মী বলেন, “শিল্পকলা একাডেমি শুধু সরকারি চাকরি নয়—এটা আমাদের চেতনা ও সংস্কৃতির প্রতীক। তাই যারাই দায়িত্বে থাকুন, তাদের আচরণ ও কর্মদক্ষতা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেটাই সবার প্রত্যাশা।”
ব্যক্তিজীবন ঘিরে বিতর্কে আলোচনায় মাকসুদ:
বরিশাল ও লালমনিরহাট শিল্পকলা একাডেমিতে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন পেশাগত আলোচনার পাশাপাশি ব্যক্তি জীবন নিয়েও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন মো. হাসানুর রশিদ মাকসুদ।
অভিযোগ রয়েছে, তার অতীত বৈবাহিক জীবনে একাধিক সম্পর্ক ও বিরোধ উঠে আসে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কয়েকটি সূত্র দাবি করে, একাধিকবার বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি, যার মধ্যে কিছু সম্পর্ক খুব অল্প সময়েই ভেঙে যায়। এ নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ রয়েছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কিছু সম্পর্ক তার পেশাগত অবস্থান ব্যবহার করে গড়ে উঠেছিল। কেউ কেউ বলেছেন, এই সম্পর্কগুলো পরবর্তীতে পারস্পরিক আস্থাহীনতা ও ব্যক্তিগত ক্ষতির দিকে গড়ায়। এমনকি কাউকে কাউকে আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়তেও হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও রেকর্ড হয়নি এবং মাকসুদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, “যে ব্যক্তি দায়িত্বে থাকেন, তার ব্যক্তিজীবনের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। যদি সে জীবনে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তার কর্মকাণ্ডও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটে বদলি হয়েছেন, তবে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, তাকে পুনরায় বরিশালে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের বিতর্কিত ইতিহাস থাকলে কোনো প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পাওয়া উচিত কি না—সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন।
লালমনিরহাটে কেমন আছেন জেলা কালচারাল অফিসার মাকসুদ:
লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মো. হাসানুর রশিদ মাকসুদ ফের আলোচনায়। এবার তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, মাকসুদের বর্তমান বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্ত্রীকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন যোগাযোগহীন অবস্থায় ছিলেন। এ নিয়ে তার স্ত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তিনি লালমনিরহাটে এসে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যান।
ঘটনার দিন, মাকসুদের স্ত্রী তার ব্যবহৃত ল্যাপটপে কিছু ব্যক্তিগত বার্তা ও কথোপকথন দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর তিনি শহরের সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেট এলাকায় আইরিন স্টোর দোকানের সামনে স্বামীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান। এ সময় পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে কালচারাল অফিসার মাকসুদ লালমনিরহাট থেকে লাপাত্তা আছেন। এই বিষয়ে তার সরাসরি কিংবা মুঠোফোনে বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো প্রশাসনের কাছে পৌঁছেনি। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
প্রিয় পাঠক: পরবর্তী ২য় পর্বে থাকবে — মদ, জুয়া এবং নারী ব্যবসা নিয়ে লোমহর্ষক প্রতিবেদন।
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply