বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে ভেসে আসা জাহাজ নিয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎ ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতেই উধাও ২০ কার্টন খেজুর লালমনিরহাটে বিয়ের অঙ্গীকার করে অস্বীকা : সেনাসদস্যের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশনে তরুণী বিবিসি বাংলাকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাহদীর লিগ্যাল নোটিস জামায়াত নেতার ড্রয়িংরুমে মিলল মিনি পেট্রোল পাম্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হাদির সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয় চরফ্যাশনে ২৮৮ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড,‎ দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি প্রাথমিক বৃত্তিতে ৮০–২০% কোটা: মেধার স্বীকৃতি নাকি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বৈষম্যের সূচনা? ‎কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির প্রতিবাদ: পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পে নেতাদের জড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন
বৃষ্টির পানিতে ভাসছে সবজি চাষিদের স্বপ্ন

বৃষ্টির পানিতে ভাসছে সবজি চাষিদের স্বপ্ন

যশোর প্রতিনিধি: আষাঢ়ের শেষ টানা ৫ দিনের বৃষ্টিতে যশোরের কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলসহ সবজির ক্ষেত ভেসে গেছে। কৃষিক্ষেতও বৃষ্টির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যশোর সদরের চুড়ামনকাটি, বারীনগরসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সবজি ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি না সরলে এবং নতুন করে সবজি চাষ সম্ভব না হলে বাজারে সবজির দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের শত শত সবজি চাষি কৃষকরা বাধ্য হয়ে বৃষ্টির মধ্যেই জমির পানি সেচে ফেলার চেষ্টা করছেন।

এই তিনটি ইউনিয়নকে যশোরের সবজি উৎপাদনের মূল এলাকা হিসেবে ধরা হয়। জমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়েই এখানে সবজি চাষ হয়। বর্তমানে মাঠের পর মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে পটল, বরবটি, পুঁইশাক, উচ্ছে, ঢেঁড়স, বেগুন, আগাম পাতাকপি, কচুর মুখি ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন চারা। কৃষকরা শীতের আগাম সবজি বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই টানা বৃষ্টিতে সেই স্বপ্নে এখন ধস নামছে।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রামের পটল চাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, আমার পটল ক্ষেত পুরোপুরি পানির নিচে। এই বৃষ্টির পর কিছুই আর বাঁচবে না। এবার ভালো ফলনের আশা করেছিলাম। আমার সেই স্বপ্ন মনে হয় পানিতে ভেসে যাবে।

একই গ্রামের আরেক চাষি দেলোয়ার গাজী জানান, গাছে ফুল আসলেও ভারী বৃষ্টির কারণে সব ঝরে যাচ্ছে। ফলন একেবারেই হবে না, আর গাছগুলোও টিকে থাকবে না।

আব্দুলপুর গ্রামের চারা উৎপাদনকারী টিটো রহমাস বলেন, চারা কিছুটা বাঁচলেও তা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এই অবস্থায় আমরা খুবই অসহায়।

হৈবতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বেগুন ক্ষেতের। পানি জমে গেলে গোড়া পঁচে গাছ মরে যায়।

যশোরের কৃষিবিদ ইউসুফ আলী বলেন, বৃষ্টির পর হঠাৎ রোদ উঠলে জমে থাকা পানির নিচে তাপ বাড়ে। এতে গাছের গোড়ায় পচন ধরে এবং ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সবজি ও মাছ চাষের পাশাপাশি সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। ক্ষেত-ঘেরে পানি জমায় কাজ নেই, আয় নেই। ফলে খাবার জোটানো এখন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্যোগে সরকারিভাবে জরুরি সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেয়া হোক।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, টানা বৃষ্টিতে যশোর সদর উপজেলায় চুয়ামনকাটির আব্দুলপুর ও বারিনগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠা কঠিন। কৃষি অফিসের পক্ষ খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com