বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে ভেসে আসা জাহাজ নিয়ে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ‎ ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতেই উধাও ২০ কার্টন খেজুর লালমনিরহাটে বিয়ের অঙ্গীকার করে অস্বীকা : সেনাসদস্যের বাড়িতে ৪ দিন ধরে অনশনে তরুণী বিবিসি বাংলাকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাহদীর লিগ্যাল নোটিস জামায়াত নেতার ড্রয়িংরুমে মিলল মিনি পেট্রোল পাম্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হাদির সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয় চরফ্যাশনে ২৮৮ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড,‎ দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি প্রাথমিক বৃত্তিতে ৮০–২০% কোটা: মেধার স্বীকৃতি নাকি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বৈষম্যের সূচনা? ‎কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির প্রতিবাদ: পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পে নেতাদের জড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন
জেদ দেখিয়েই চলছেন ইশরাক, লাখো নগরবাসী ভোগান্তিতে

জেদ দেখিয়েই চলছেন ইশরাক, লাখো নগরবাসী ভোগান্তিতে

অনলাইন ডেস্ক: মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ২০ দিন ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ঘুরছেন জুরাইনের বাসিন্দা রফিক মিয়া। কাজটি না হওয়ায় মেয়ের পাসপোর্ট করাতে পারছেন না তিনি।

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে টানা ৩২ দিনের আন্দোলনের কারণে কাজটি করাতে পারছেন না রফিক মিয়া।

ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, “গতকাল শুনেছিলাম আজ (সোমবার) থেকে সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম চলবে। এসে দেখি মূল ফটকে তালা। সব প্রশাসনিক কাজ বন্ধ। এই ভোগান্তি আর ভালো লাগে না।”

“ঈদের আগে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য ঘুরছি। ২০ দিনের বেশি সময় হয়ে গেলেও তা ঠিক করতে পারছি না। ফলে তার পাসপোর্টের জন্য আবেদনও করতে পারছি না।”

একই অবস্থা রাজীব হোসেনেরও। ট্রেড লাইসেন্স করাতে এসেছিলেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিনই এসে ফিরে যাচ্ছি। আন্দোলন চলুক, কিন্তু সেবা তো বন্ধ করা ঠিক না। সাধারণ মানুষ কী দোষ করল?”

ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের ফলে টানা ৩২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে নগর ভবনের সব সেবা। ফলে জন্ম নিবন্ধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ জরুরি সব সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন দক্ষিণের সাধারণ মানুষ। ১৪ মে শুরু হয় এই আন্দোলন। ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে বিএনপির নেতাকর্মী ও ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন। ১৫ মে থেকে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রম।

১৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন টানা ৩ জুন পর্যন্ত চলে। ওইদিন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আন্দোলন সাময়িক শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।

আন্দোলনের বিরতির আগে ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটির পর ১৫ জুন থেকে আবার আন্দোলন শুরু হয়।

নগর ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্কের দায়িত্বে থাকা মো. দুলাল  জানান, ৩২ দিন ধরে নগর ভবনের সকল কার্যক্রম বন্ধ। প্রধান ফটকসহ সকল দরজা বন্ধ। এমন কি লিফটও বন্ধ। তাই চাইলেও কেউ অফিসে আসতে পারছে না।

অথচ রবিবার ইশরাক নিজেই বলেছিলেন, সেবা দেয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কাজ চলবে।

এদিকে মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না পারলেও সোমবার নগর ভবনে কর্মচারীদের নিয়ে সভা করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

নগর ভবনের মিলনায়তনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভায় ইশরাক ছিলেন প্রধান অতিথি। সভার ব্যানারে তার নামের আগে লেখা ছিল ‘মাননীয় মেয়র’।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইশরাক বলেছেন, কেবল নগর ভবন নয়, যে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে আয়োজকরা ব্যানারে তার নামের আগে মেয়র লেখেন।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “ইশরাক যা করেছেন সেটা বালখিল্যপনা। এমনতো কখনও দেখিনি। উনি যেটা করতে পারতেন, দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন চাইতে পারতেন। তার বদলে যা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।”

সেবা নিয়ে যা বলেছেন ইশরাক:
সোমবার সকালে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, “নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে আন্দোলনের মধ্যেও জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সেই প্রথমদিন থেকেই আমাদের তত্ত্বাবধানে সিটি করপোরেশনের সকল কার্যক্রম চলে আসছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু মোকাবেলায় মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঈদে কাজ করেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মচারীরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হয়ে সকল বর্জ্য।”

রবিবার সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি-ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের যাতে ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব। আন্দোলনের পাশাপাশি নাগরিক সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “মাসখানেক ধরে কাজ বন্ধ। খাজনা-ট্যাক্স কিছুই জমা হচ্ছে না। কবে সব স্বাভাবিক হবে, তা কেবল সরকার জানে।”

ঈদের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় জুরাইন থেকে আসা মো. কামরুলের সঙ্গে। তার উদ্দেশ্য ছিল হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া। হতাশ হয়ে বলেন, “দূর থেকে এসেছি, এসে দেখি কিছুই জমা দেওয়া যাচ্ছে না। এটা সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট ভোগান্তি।”

ইশরাককে নিয়ে যা যা হয়েছে:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ১৪ দিন পর ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে এবং সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তাকে পরাজিত দেখানোর পর সেই নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলা করে তিনি আদালতের রায় পান গত ১ অক্টোবর, সাত দিন পর জারি হয় প্রজ্ঞাপন। মেয়র পদ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা করতে লেগে যায় প্রায় এক মাস।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির মেয়র নির্বাচনে তাকে পরাজিত দেখানো হয়। ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে নতুন নির্বাচন দাবিতে মামলা করেন।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইশরাক আর্জি পাল্টে তাকে বিজয়ী ঘোষণার আবেদন করেন। কিন্তু একই পথে এবার ভিন্ন ফল দেখা গেল।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে মামলা করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পক্ষে রায় পেলেও মেয়র হিসেবে ইশরাককে শপথ পড়ানো হয়নি। এরই মধ্যে সেই করপোরেশনের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে।
নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল থেকে ইশরাক রায় পান গত ২৭ মার্চ। করপোরেশন ভেঙে দেওয়া না হলে তার মেয়াদ তখনও দুই মাসের কিছু বেশি সময় অবশিষ্ট থাকত।

নির্বাচন কমিশন গত ২৭ এপ্রিল তাকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করে। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার শপথের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

অপেক্ষার মধ্যে ইশরাক সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করে এবং নগর ভবনের সামনে অবরোধ দিয়ে নাগরিক সেবা প্রায় অসম্ভব করে তোলে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয় গত ২২ মে। সেদিন ইশরাক সমর্থকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান। বাধা পেয়ে মৎস্য ভবন থেকে কাকরাইল সড়কে অবস্থান নেন।

শহরের দুটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখার পর দুঃসহ যানজটে ভুগতে থাকে নগরবাসী। সেদিন প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে চান বলে চাওর হয়।

সেদিনই ইশরাক হাইকোর্ট থেকে রায় পান। তাকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়াতে এক ব্যক্তির করা আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

তবু ইশরাকের কপাল ফেরেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘আইনি জটিলতা’র কথা বলে শপথ আয়োজন থেকে বিরত থাকে।

 

পরে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান আবেদনকারী। সেটি খারিজ হয় ২৯ মে। কিন্তু ততদিনে করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয় হয় অবস্থা।

২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে জয়ী ঘোষণার পর তিনি শপথ নেন ২৭ ফেব্রুয়ারি। করপোরেশনের ২ জুন ছিল প্রথম বোর্ড সভা, ফলে মেয়াদ সেদিনই নির্দিষ্ট হয়ে যায় ১ জুন, ২০২৫।

সেই রায়ের সার্টিফাইড কপি এখনও বের হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com