বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
চরফ্যাশনে মাদক ও চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৩ লালমনিরহাটে ১০ দিনের নবজাতক বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার,এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা; ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি চোরকে চিনে ফেলায় র‌্যাব সদস্যের স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বর্ণালঙ্কার লুট প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ আনাস পঞ্চগড়ে জনবল কাঠামো নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে এমপিও’র দাবিতে মানববন্ধন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে এদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না: ড. মাসুদ ৩৫ ফুটের গর্তে পড়া ২ বছরের শিশুটি ১০ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি
লালমনিরহাটে মা–মেয়ের অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’

লালমনিরহাটে মা–মেয়ের অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’

রকিবুল ইসলাম রুবেল,লালমনিরহাট: লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামান ও তার কন্যা (পালিত) সুরভী সুলতানা জামান। স্থানীয়দের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এতটাই অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত যে তা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

অভিযোগের পটভূমি:
২০১৫ সালের ১ আগস্ট সহকারী শিক্ষক আব্দুস সামাদের অবসরে পদ শূন্য হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অনুমোদন এবং গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো নিয়ম না মেনে ওই দিনই সুরভী সুলতানা জামানকে “জুনিয়র শিক্ষক” হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগপত্রে বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপেন্দ্র নাথ দত্তের স্বাক্ষর ছিল। যা আইনত বৈধ নয়।

এমপিও ও পদোন্নতিতে অনিয়ম:
যদিও নিয়োগপত্রে জুনিয়র শিক্ষক লেখা ছিল, তবুও সুরভীকে এমপিওভুক্ত দেখানো হয় সহকারী শিক্ষক হিসেবে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক ডাটাবেইজে তার নিয়োগ সাল পরিবর্তন করে ২০০৯ দেখানো হয়। ফলে সিনিয়রিটি হারান একাধিক শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, এতে অন্তত দুইজন শিক্ষকের বেতন কমে যায় এবং সুরভী অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

অভিযোগকারীর বক্তব্য:
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম বলেন,
“আমি ২০১১ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাই। অথচ ২০১৮ সালে শিক্ষক ডাটাবেইজে সুরভীর নিয়োগ ২০০৯ সাল দেখানো হয়। এতে আমি সিনিয়রিটি হারাই এবং বেতনে বৈষম্যের শিকার হই। ন্যায্য অধিকার আদায়ে বারবার অভিযোগ করেও এখনো সমাধান পাইনি।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য:
অভিযুক্ত শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামান বলেন,
“আমার নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন লালমনিরহাট কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বিস্তারিত বিষয়ে আমার মা সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামান জানেন।”
তবে স্বপ্না জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলেন, “আমি তখন শিক্ষক ছিলাম, তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানি না। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী বেতন শিট জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে পাঠানো হচ্ছে।”

এদিকে এ ঘটনায় ২০১৮ সাল থেকে অভিযোগ চলমান থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

 

প্রবা/রুবেল 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com