ডেস্ক রিপোর্ট :: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল এক যৌথ অভিযানে এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার (১ মে) পুলিশ এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানায়।

ক্ষুদে বার্তায় পুলিশ জানায়, চিলমারী থানার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেনের মেয়ে আয়েশা গত ১৭ এপ্রিল সকালে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর সেদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল শিশুটির বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা করেন।

ক্ষুদে বার্তায় পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর পরই পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্তে নামে। গতকাল বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযানে মামলার মূল সন্দেহভাজন মোছা. কহিনুর বেগম (২৬) এবং তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
ক্ষুদে বার্তায় পুলিশ আরও জানায়, আয়েশা পাশের বাড়িতে কহিনুর বেগমের ছেলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে একটি কলম দিয়ে চোখে আঘাত পায় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। এতে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয় এবং রাতের অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

ক্ষুদে বার্তায় পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার করা দম্পতিকে আজ শুক্রবার (১ মে) আদালতে পাঠানো হলে কহিনুর বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply