অনলাইন ডেস্ক::পাবনার আতাইকুলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক সাংগঠনিক সম্পাদকের ব্যবসাকেন্দ্রের জুয়ার আসর থেকে বিএনপি সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারের একটি শোরুম থেকে আটক করা হয়।
আতাইকুলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল আওয়াল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আটক নয়জনকে শুক্রবার দুপুরে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

আটকরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রউফ (৪৫), শ্রীকোল গ্রামের খাজা হোসেন (৪০), লোহাগড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৯), মোহাম্মদ জনি (৪০), চোমরপুর গ্রামের লালন হোসেন (৩৮), হাশেম আলী (৪০), শ্রীকোল গ্রামের জলিল মুন্সী (৪২), শ্রীকোল বেলতলা গ্রামের আমিরুল ইসলাম (৪০) ও শ্রীকোল দিয়ারপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ (৪২)।
জানা গেছে, এদের মধ্যে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রউফ পাবনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা কামরুল হাসান মিন্টুর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করতেন। এরপর মিন্টু আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আব্দুর রউফ এলাকায় এসে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দোয়া চেয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছেন। এছাড়া ভোট চেয়ে বিলবোর্ডও টাঙিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাভেলের শোরুমে বিএনপি সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রউফসহ বেশ কয়েকজন জুয়ার আসর বসায়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আতাইকুলা থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েও যান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, টাকার বিনিময়ে ওই শোরুম জুয়াড়িদের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা। এতে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষজন। কয়েকটি স্পটে সারারাত ধরে কয়েক মাস ধরে জুয়া খেলা চললেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে না।

তারা আরও বলেন, ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ভাগ্নের আশীর্বাদে ধরাছোঁয়ার বাহিরে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পাভেল। পাভেল সালিশ ও চাঁদাবাজি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। তিনি কোনো মামলার আসামি হননি। এলাকায় আগের মতোই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলেন।
Leave a Reply