বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
‎পাটগ্রাম সীমান্তে গুলিতে নিহত গরু ব্যবসায়ীর লাশ নিয়ে গেছে ভারতীয় বিএসএফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের কর্মসূচি; বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে পরীক্ষা নিলেন ইউএনও দ্বিতীয় স্ত্রীর মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার নুরে আলম বেপারি জুলাই আদর্শিক জাগরণের প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শিখিয়েছে: জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে মাহিরুলে মুখোশ উম্মোচন! ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট ১৬ কোটি টাকার টার্মিনালে মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা লালমনিরহাটে ভোগদখলীয় জমি জবরদখল ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ (জকসু) নির্বাচনে রংপুর বিভাগের একমাত্র ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী লালমনিরহাটের আজিজুল হাকিম আকাশ গ্রেড উন্নীতকরণে রাজশাহীতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের অর্ধদিবস অবস্থান ধর্মঘট
যশোরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি রোগীর স্বজনরা

যশোরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, জিম্মি রোগীর স্বজনরা

অনলাইন ডেস্ক::যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সিন্ডিকেট গঠন করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট গঠন করে বাণিজ্য করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের তালিকায় অ্যাম্বুলেন্স ভর্তি খাতায় নাম ওঠাতে গেলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। সিন্ডিকেটের বাইরে রোগী বহনের জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সরকারি এই হাসপাতাল থেকে রোগী অথবা লাশ নিতে হলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সেখানে অবস্থানরত অ্যাম্বুলেন্স যোগে নিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতালে যত্রতত্র অ্যাম্বুলেন্স রেখে বিভিন্ন ওয়ার্ড, লাশকাটা ঘরসহ জরুরি বিভাগের আশপাশে ঘোরাফেরা করে থাকে খরিদ্দার সংগ্রহের জন্য।

সূত্র জানায়, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে সরকারি হাসপাতালের জায়গা দখলে নিয়ে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড তৈরি করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে। ওই স্ট্যান্ডে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যোগ করতে হলে সিন্ডিকেট প্রধানদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয় এককালীন। টাকা না দিলে ওই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সুযোগ পায় না কেউ।

অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে সিন্ডিকেটের সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা লাভবান হচ্ছেন। আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কেননা হাসপাতালে বিপদে পড়া মানুষদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়ার টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসন ও যশোর পুলিশ প্রশাসন জোরালো পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘোষণা দিয়েছে বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না। সকল রোগী ও লাশ হাসপাতালে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে যশোর জেলা প্রশাসন ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে হাসপাতালের ভিতরে গড়ে ওঠা অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড ও দালাল নির্মূলের। এরপর বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে কয়েকজন চালককে জরিমানা করার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে। ওই সময় প্রশাসনের চাপে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। সিন্ডিকেটের সদস্যরাও গা ঢাকা দেয়।

কিন্তু কিছু দিন পরেই একে একে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে থাকে হাসপাতালের ভিতরে। বর্তমানে জরুরি বিভাগ ও করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে আবারো অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বাণিজ্য ভালো হওয়ায় ওই স্ট্যান্ডে ক্রমেই অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ছে। অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডকে ঘিরেই একটি চক্র চাঁদাবাজিতে মেতে রয়েছেন। প্রতি মাসে টাকা হাতানো হয় চালকদের কাছ থেকে। ওই চাঁদার টাকা দিতে অনীহা নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের।

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, রোগীকে ঢাকায় নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গিয়ে তিনি রীতিমতো বিপাকে পড়েন। তার কাছে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে হাসপাতালে অবস্থানরত অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। পরে তিনি তার পরিচিত একজনকে ফোন করলে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ভাড়ার কথা জানান। কিন্তু রোগীকে হাসপাতালের বাইরে থেকে উঠাতে হবে। কারণ জিজ্ঞাসা করতেই তাকে জানানো হয়, তাদের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করে রোগী উঠাতে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় বাইরে নিয়ে যেতে নারাজ হন। পরে ১০ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতালে অবস্থানরত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে ঢাকায় নিতে বাধ্য হন। যদি তিনি বাইরের অ্যাম্বুলেন্স রোগী নেয়ার সুযোগ পেতেন, তাহলে কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে সাশ্রয় হতে পারতেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানুষের সাথে প্রতারণা করা অবশ্যই অন্যায় ও অমানবিক। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com