স্টাফ রিপোর্টার: ঠিক জোহরের নামাজের কিছুক্ষণ পরেই আকাশ যেন হিংস্র হয়ে উঠেছিল। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর আকাশপথে নামিয়ে আনা হয় নিপীড়নের নতুন মাত্রা। ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ, আর হেলিকপ্টার থেকে ছিটানো হয় গরম পানি যা ঝলসে দিতে চেয়েছিল আমাদের ‘এক দফা এক দাবি’-তে উজ্জীবিত প্রতিরোধ।

শুধু আকাশপথেই নয় আশপাশের থানা, ওয়ার্ড থেকে পাঠানো হয়েছিল স্বৈরাচারের লাঠিয়াল বাহিনী। তারা ছিল লাঠি, সোঠা, দেশি অস্ত্র, এমনকি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত। তাদের ছোড়া গুলিতেই গুলিবিদ্ধ হই। প্রথমে আমাকে নেয়া হয় পপুলার হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় ল্যাবএইড হাসপাতালে। তখনো আমার পা থেকে একটি গুলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়।
সেই গুলি বিদীর্ণ করে দিয়েছিল শরীর, কিন্তু নয় আমাদের মনোবল। আমাদের সেই দিনগুলো ছিল দুঃসহ, করুণ, কিন্তু গর্বের।

গুলিবিদ্ধ হয়েও রাজপথ থেকে সরে যাইনি।আমার খোঁজখবর নিতে আসেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ভাই।
আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকা কলেজের এক ঝাঁক সাহসী ছাত্রনেতা। তাদের চোখে ছিল শঙ্কা, কিন্তু চোয়ালে ছিল দৃঢ়তা।
ঢাকা কলেজ থেকে কী পেয়েছি, তা হয়তো ঠিকভাবে বলতে পারি না। কিন্তু যা পেয়েছি, তা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন জীবনের ঝুঁকির মুহূর্তে ঢালের মতো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদলের কিছু বড় ভাই, বন্ধুর মতো ছোট ভাইদের অটুট মায়ার বন্ধন।

তবে পরদিন, (৫ আগস্ট) যদি স্বৈরাচার সরকারের প্রথম পতন না ঘটতো, তাহলে সেদিন ভিডিও ফুটেজে থাকা আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের শেষ গন্তব্য হতো ‘আয়না ঘর’।আর এই আয়না ঘর কী ভয়ানক ছিল এ দেশের সাধারণ নাগরিকের অজানাই থেকে যেত চিরকাল।
এভাবেই নিজের ফেসবুক পোস্টে ভয়াল সেই জুলাই-আগস্টের স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী মোঃ আমিরুল ইসলাম লিওন।
Leave a Reply