মনজু হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গণপিটুনির শিকার হন উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কার্য-সহকারী জাহিদুল ইসলাম। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। মারধরের শিকার ওই কর্মকর্তা কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সড়কে নতুন করে কার্পেটিং শুরুর পরপরই কিছু অংশ উঠে যেতে দেখা যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, মাটি ও বালু না সরিয়েই কার্পেটিং শুরু করা হয়, যা নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
জানা গেছে, কাজটি চলছিল কাদা ও ধুলো-ময়লার ওপরেই। কাজের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় যুবক মাসুদ রানাকে হুমকি দিয়ে ভিডিও করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা কাজ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে现场 গিয়ে দেখি—কার্যক্রমে অনিয়ম স্পষ্ট। তাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
নির্মাণকাজে যুক্ত মিস্ত্রি আবুল কালাম বলেন, “বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় বালু জমে ছিল। ময়লা না সরিয়েই কার্পেটিং করা হয়—যা ঠিক হয়নি।”
গণপিটুনির শিকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি কাজ দেখতে গিয়েছিলাম। সাংবাদিকদের বলেছিলাম—কোনো অনিয়ম হয়নি। তখনই কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করে। আমি পালিয়ে বেঁচেছি।”

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান বলেন, “রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করেছে বলেও শুনেছি। তবে কর্মকর্তা গণপিটুনির শিকার হয়েছেন—এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা তদন্ত করে দেখব।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআর ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মিজানুর ইসলাম বলেন, “এটা ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রকল্প। আমি সাব-ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত। বিস্তারিত মনে নেই, পরে জানাব।” এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রবা/আরইসআর
Leave a Reply