খাজা রাশেদ,লালমনিরহাট।।লালমনিরহাটে পুলিশ দেখে নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর অবশেষে নদীতে ভেসে উঠলো সেই কিশোর শান্ত রায়ের(১৭) মরদেহ ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয়রা লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের মেঘারাম গ্রামের ছয়মাতার ঘাট এলাকায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাটার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাদ আহমেদ বলেন,শান্ত একাধিক মাদক মমলার আসামি। আমাদের কেউ তাকে ধাওয়া দেওয়া দেইনি।আমাদের অভিযান দেখে সে পানিতে পরে যায়।মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শান্ত রায়ও পলাতক আসামী বলেও জানায় তিনি
এর আগে,গত রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে ওই এলাকায় নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর শান্ত। সোমবার দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়েও কোন সন্ধান পায়নি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মৃত কিশোর শান্ত রায় পাশ্ববর্তি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল গ্রামের বিনদ চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়কমন্ডল থেকে মোটর সাইকেলের সিটে গাজা ফিটিং করে একটি চক্র মাদক পাচার করে লালমনিরহাটের দিকে আসতেছে। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালায় লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। পরে,সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের মেঘারাম গ্রামে ধরলা নদীর ছয়মাতার ঘাট নামক একটি নৌ ঘাটে অবস্থান নেয় ডিবি পুলিশ। দুপুরে নৌকা ঘাটে পৌছামাত্র ডিবি পুলিশ মোটর সাইকেলসহ অমল চন্দ্র নামে এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করে চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।

ঐ সময় পুলিশ দেখে শান্ত রায় নৌকা থেকে ধরলা নদীতে লাফ দিয়ে কিছু দুর সামনে উচু স্থানে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ সেখানে ধাওয়া দেয়ার চেষ্টা করলে পুনরায় নদীতে লাফ দেয় শান্ত রায়। এরপর থেকে কোন খোঁজ মেলেনি তার। খবর পেয়ে ওই দিন রাতে ও পরদিন সোমবার দিনভর ধরলা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। দলটি তার কোন সন্ধান মেলাতে ব্যর্থ হয়।
ওই দিন গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই জয়েন উদ্দিন বাদি হয়ে আটক অমল চন্দ্র ও নিখোঁজ শান্ত রায়ের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আটক অমলকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও নিখোঁজ শান্ত রায়কে পলাতক দেখায় পুলিশ।
অবশেষে মঙ্গলবার ওই স্থানে (লাফ দেয়া স্থানে) শান্ত রায়ের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মৃত.শান্ত রায়ের ভাই স্বপন রায় বলেন, পুলিশের তাড়া খেয়ে আমার ভাই ভয়ে নদীতে লাফ দিয়ে সাঁতার কেটে সামনে উচুতে ঠাঁই জীবন রক্ষার চেষ্টা করে। সেখানে একজন নারী তাকে বাচানোর জন্য নৌকায় এগিয়ে আসতেই পুলিশ তাকে নিষেধ করে এবং নদীতে নেমে আমার ভাইকে আটকের হুমকী দেয়। এতে ভয় পেয়ে শান্ত পুনরায় নদীতে লাফ দেয়। পুলিশ চাইলে তাকে বাঁচাতে পারত। তা না করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে তাকে ঠেলে দিয়েছে। এটা কোন দুর্ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত হত্যা। আমরা মামলায় যাব। ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।

লালমনিরহাট গোয়েন্দা (ডিবি) থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাদ আহমেদ বলেন,শান্ত একাধিক মাদক মমলার আসামি। আমাদের কেউ তাকে ধাওয়া দেওয়া দেয় নি।আমাদের অভিযান দেখে পানিতে পরে যায় শান্ত।মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শান্ত রায়ও পলাতক আসামী। সে পানিতে পড়ে গেলে আমরা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা করি। কিন্তু মরদেহ উদ্ধার হয়েছে দুই দিন পরে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
Leave a Reply