বরাবর, অফিসার ইনচার্জ লালমনিরহাট সদর থানা লালমনিরহাট।
বিষয়: চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ।
মাননীয় মহোদয়,
আমি মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, পিতা – মল্লিক উদ্দিন, সাং – পশ্চিম বৈদ্যনাথ, ডাকঘর – ছাইতানতলা, উপজেলা – সুন্দরগঞ্জ, জেলা – গাইবান্ধা। বর্তমানে আমি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মিশনমোড় এলাকায় অবস্থিত শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের পরিচালক হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে কর্মরত আছি এবং উক্ত এলাকায় বসবাস করছি। পাশাপাশি আমি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করি, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল Channel S (Bangladesh)-এ সাংবাদিক এবং লালমনিরহাট জেলার স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
গত দুই মাস ধরে আমি লালমনিরহাট সদর উপজেলার হাড়িভাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে জমি খুঁজছিলাম। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জনৈক বাবুল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারি, হাড়িভাঙ্গা এলাকার তালেব আলী নামের এক ব্যক্তি তার ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করতে ইচ্ছুক। প্রায় দেড় মাস আগে আমি উক্ত তালেব আলীর সঙ্গে দেখা করি এবং সরেজমিনে গিয়ে জমিটি পরিদর্শন করি। দেখি, জমির উপর একটি টিনের ঘর নির্মিত রয়েছে, যেখানে তার মেঝো ছেলে আমিনুর ইসলাম বসবাস করছে।
আমি বিষয়টি জানতে চাইলে তালেব আলী আমাকে জানান, জমি তার মালিকানাধীন এবং বিক্রি হলে তার ছেলে ঘরটি সরিয়ে নেবে; এতে তার ছেলের সম্মতিও রয়েছে। এরপর আমি জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করি।
এরপর আনুমানিক ১৭–২০ দিন আগে, আমি সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের সামনে জনৈক পচা মিয়ার পান দোকানের পাশে আমার শ্বশুর আলহাজ্ব আজম মন্ডল (সাবেক বিজিবি সদস্য) কে পান খাওয়াচ্ছিলাম। এ সময় তালেব আলীর ছেলে আমিনুর ইসলামসহ ৪–৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি আমার নাম ধরে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তারা বলে, আমি যদি জমি কিনতে চাই, তবে তাদেরকে চাঁদা বাবদ ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি এতে রাজি না হলে আমিনুর ইসলাম বলেন, “তুই যদি টাকা না দিস, তোর স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেবো।” এছাড়া আমাকে লালমনিরহাটে থাকতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
আমি ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। ওই সময় পচা মিয়া ও আমার শ্বশুর এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে, গত ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আমি ঢাকায় অবস্থান করেছিলাম, যেখানে আমার স্ত্রীর বার কাউন্সিলের লিখিত আইন পরীক্ষাটি ২৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী এবং পরীক্ষার জন্য আমরা ঢাকায় গিয়েছিলাম। ঢাকায় তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর বাসায় আমরা অবস্থান করেছিলাম। আমার মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করলেও এই তথ্য সহজেই যাচাই করা যাবে।
আমি ৩০ জুন সকাল আনুমানিক ৮টায় লালমনিরহাটে ফিরে আসি। ঢাকা যাতায়াতের ট্রেনের টিকিট আমি অনলাইনে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ক্রয় করি এবং পেমেন্ট বিকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন করি। টিকিটের মূল কপি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজনে প্রদর্শন করতে পারি। রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে যাচাই করা সম্ভব।
এরপর, ১ জুলাই আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানতে পারি, তালেব আলীর ছেলে আমিনুর ইসলাম আমার বিরুদ্ধে গত ২৮ জুন লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার ভিত্তিতে এসআই মকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেন। তবে আমি বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করি, তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো পর্যন্ত আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি এবং আমার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
আমিনুর ইসলামের অভিযোগে বলা হয়েছে, আমি নাকি ২৮ জুন তার ঘরে গিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছি ও তার ঘর ভাঙতে চেয়েছি — যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ উক্ত তারিখে আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম এবং সে সম্পর্কিত প্রমাণাদি আমার কাছে রয়েছে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পূর্বে চাঁদা দাবি করার ঘটনা এবং জমি বিক্রয় প্রক্রিয়া ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে আমিনুর ইসলাম পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে আমি মানসিকভাবে ভীষণভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ এনে আমাকে বিপদে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।
অতএব, আপনার নিকট বিনীত অনুরোধ, উপরোক্ত ঘটনার যথাযথ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আমিনুর ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
সংযুক্তিসমূহ:
১। অনলাইন ট্রেন টিকিটের কপি (২৫ জুন ও ২৯ জুন)। ২। বিকাশ লেনদেনের রসিদ/স্টেটমেন্ট (টিকিট পেমেন্ট সংক্রান্ত)।
বিনীত, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ পরিচালক, শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল সাংবাদিক, দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকা সাংবাদিক, Channel S (Bangladesh) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ ঠিকানা: মিশনমোড়, সদর, লালমনিরহাট স্থায়ী ঠিকানা: পশ্চিম বৈদ্যনাথ, ছাইতানতলা, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা মোবাইল: [আপনার মোবাইল নম্বর] স্বাক্ষর: _____________________ তারিখ: ০১ জুলাই ২০২৫
Leave a Reply