বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের পথচলার শুরুর দিন আজ দুপুরে ভাত খাওয়ার নামে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিপাহি,ভিডিও ভাইরাল এআই দিয়ে মাদক কারবারির জার্সি বদল, এসআইকে শোকজ বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান পণ্ড কুকুরকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ব্রাজিলের খেলা দেখতে না পেরে বিদুৎ অফিসে হামলা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৬ ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট নই, সাজা বাড়াতে আপিল করা হবে সংখ্যার কারসাজিতে শতবর্ষ পর বাটোয়ারা মামলার উদ্ভব
কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের পথচলার শুরুর দিন আজ

কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের পথচলার শুরুর দিন আজ

অনলাইন ডেস্ক: আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, যা টানা ৩৬ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এ বছর শুরু হলো সেই ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি।

২০২৪ সালের ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে আন্দোলনে নামেন। শুরুতে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের পরিধি ও দাবি বিস্তৃত হতে থাকে।

আন্দোলনের শুরুতে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ করেন। সেখান থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল ২০১৮ সালে জারি করা কোটা বাতিলসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র পুনর্বহাল, ভবিষ্যতে কোটাব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে একটি কমিশন গঠন এবং সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল।

একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা ও প্রতীকী সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলনের পেছনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন, যখন সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলসংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামেন।

যদিও সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, আন্দোলনকারীরা নতুন নির্বাহী আদেশের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থন পায়।

১৫ জুলাইয়ের পর আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয় এবং ১৬ জুলাই থেকে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবির গণ্ডি পেরিয়ে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়েন এবং দেশ ত্যাগ করেন। সেই ঘটনার মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com