ডেস্ক রিপোর্ট :: পদ্মা নদীতে মর্মান্তিক বাসডুবি এবং রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে বাস উল্টে যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পঞ্চগড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে লেগে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অন্তত দুজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। গত দুদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনার কারণে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী ফুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নীলফামারীর ডোমার থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী শাহী পরিবহনের একটি গেটলক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।

বাসটিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে যাত্রীদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এর আগেই যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিতে চলে যান।
দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ লিডার মো. মনজুরুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলটি অনেক দূরে অবস্থিত। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে গেলেও আগেই যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে সেখান থেকে চলে যান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত একজন নারী ও একজন পুরুষকে পেয়েছি। তারা চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন।

এ প্রসঙ্গে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক যাত্রীবাহী বাস উল্টে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাহতের বিষয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। বাসে থাকা যাত্রীদের মালামাল চুরি ঠেকাতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় যাত্রীবাহী আরেকটি বাস। প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে অন্তত ১৯ জন পোশাকশ্রমিক আহত হন। ঈদের ছুটি শেষে তারা ওই বাসে করে নিজেদের কর্মস্থলে ফিরছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Leave a Reply