আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রে! ইরান ও আমেরিকা-ইসরাইল জোটের মধ্যকার সংঘাত রোববার আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের চলমান সমর অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের ওপর বড় ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী তাদের অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোরের ৫৩তম ঢেউ হিসেবে ইসরাইলের দিকে ১০টি অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ এবং ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে বলে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব থেকে দেখা গেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার প্রচেষ্টায় আকাশ আলোর ঝিলিকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই বিধ্বংসী হামলা রুখতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় এগুলোকে প্রতিহত করা প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের হামলার সমান্তরালে লেবাননের দক্ষিণ প্রান্ত থেকেও ইসরাইলের ওপর রকেট বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, উত্তর ইসরাইলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মা’আলোত-তারশিহাসহ বেশ কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবানন থেকে একের পর এক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে ইরানের এই সংঘাত এখন আর শুধু আকাশযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ড্রোন, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই যুদ্ধকে এক নতুন ও ভয়ংকর মাত্রায় নিয়ে গেছে। ১৫ মার্চের এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে, ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করে পাল্টাপাল্টি আঘাত হানার নীতিতে অটল রয়েছে।
ইরানের হাইপারসনিক মিসাইল হামলা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট বর্ষণ ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই বহুমুখী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
Leave a Reply