গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গাইবান্ধা শহর পুলিশ ফাঁড়িতে বসে জুয়া খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়ানোর পর দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

প্রত্যাহার করা দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করার কথা শনিবার দুপুরে জানিয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন।
প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বুলবুল ইসলাম এবং এসআই আখতার হোসেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সদরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ভেতর একটি লম্বা টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। পাশে পুলিশের পোশাকে একজন দাঁড়িয়ে আছেন।
কেউ টি-শার্ট, কেউ গেঞ্জি, কেউ পুলিশের পোশাক পড়ে আছেন। একজনের মাথায় কালো চশমা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলে একটি করে মানিব্যাগ। টেবিলের ওপর তাস ও টাকা। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছেন তারা। মুখে ১৭, ১৮, ২০ শোনা যাচ্ছে।

একটু পর পর মানিব্যাগ থেকে কেউ টাকা বের করে টেবিলের ওপর রাখছেন। কেউ তাস হাতে নিচ্ছেন। টেবিলের ওপর ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০০ টাকা ও এক হাজার টাকার অনেক নোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
এ ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।
পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বলেন, “ফাঁড়িতে কয়েকজন টাকা দিয়ে তাস খেলছিলেন। এটা অপরাধ। ভিডিওতে আমরা যাদেরকে চিনতে পেরেছি, তাদেরকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।”

গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “জুয়াসহ অপরাধ দমন করা পুলিশের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের রক্ষকরাই যদি তা ভঙ্গ করে তাহলে আরও গুরুতর অপরাধ। এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং মানুষের আস্থা কমে যায়।”
Leave a Reply