বিজ্ঞাপন:
 
সংবাদ শিরোনাম:
অসময়ের বৃষ্টিতে দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে এবারের শীত

অসময়ের বৃষ্টিতে দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে এবারের শীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কার্তিক মাসের মাঝামাঝিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা দেখা গেছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টি আরও দুই দিন অর্থাৎ শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে ঠান্ডা ভাব তৈরি হবে এবং শীতের আমেজ বাড়বে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ ভারতের অন্ধ্র উপকূলে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের আকাশে মেঘ জমেছে। বৃহস্পতিবার খুলনা, মোংলা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। আগামী তিন দিনে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের উজানে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, আত্রাই, করতোয়া, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদীর পানি এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই, কংস ও জিঞ্জিরাম নদীর পানিও আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়ার আভাস দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেছেন, কার্তিকের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখন আমন ধান পাকার মৌসুম এবং অনেক কৃষক কাটা শুরু করেছেন। আবার রবিশস্যের জমি প্রস্তুতের কাজও চলমান। বৃষ্টিতে এসব কাজ অন্তত দুই-তিন দিন পিছিয়ে যাবে। তবে বৃষ্টি থেমে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, চলতি বছর দেশের শীতকাল স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, রাজধানী ঢাকায় শীতের আগমন এবারও দেরিতে হতে পারে। গত বছর নভেম্বরে সারাদেশে কনকনে শীত পড়লেও ঢাকায় তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয়নি। এবারও নভেম্বরজুড়ে রাজধানীতে শীতের প্রভাব তেমন থাকবে না। ঢাকায় শীত শুরু হতে পারে নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায় শীত বাড়তে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঠান্ডা ছড়িয়ে পড়বে।

একেএম নাজমুল হক ব্যাখ্যা করেন, বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন সিস্টেম সৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, ফলে সহজে তাপমাত্রা কমছে না। তার সঙ্গে ঘনবসতি ও যানবাহনের তাপ মিলিয়ে ঢাকায় তাপমাত্রা সবসময় আশপাশের জেলার চেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, যেখানে ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক থাকার কথা, সেখানে এখন তিন কোটিরও বেশি মানুষ বাস করছে। ফলে তাপমাত্রা টাঙ্গাইল বা গাজীপুরের তুলনায় ঢাকায় গড়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশি থাকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com