রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে ১৪ বছরের এক কিশোরীর শৈশব কেড়ে নিতে নোটারি কারসাজিতে বয়স বাড়িয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের আসর। রঙিন স্বপ্নের বদলে চোখে-মুখে ছিল অনিশ্চয়তার ছায়া। ঠিক তখনই ইউএনওর হস্তক্ষেপে থেমে যায় বাল্যবিয়ের আয়োজন, ফিরিয়ে আনা হয় এক শিশুর ভবিষ্যৎ—রক্ষা পায় তার শৈশবের হাসি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারিয়া হকের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন থামিয়ে দেন এবং কনের বাবাকে জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কনের পরিবার ১৪ বছর বয়সী তাহমিনা (ছদ্মনাম) বয়স নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ১৮ বছর দেখিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের রামদিয়ার বারমল্লিকা গ্রামের প্রবাসী যুবক সজীব হোসেনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছিল। জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাজবাড়ী কোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে বয়স জালিয়াতির নথি তৈরি করা হয়।
বিয়ের দিন সকালে বরপক্ষ আসার প্রস্তুতি চলছিল কনের বাড়িতে। বরযাত্রীদের জন্য ছিল বাহারি খাবারের আয়োজনও। খবর পেয়ে কিশোর কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রোমোটর গোলাম রব্বানী, স্থানীয় মেম্বার ও গ্রাম পুলিশ বিয়ের বাড়িতে যান এবং বাল্যবিয়ের কুফল বুঝিয়ে কনের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেন—১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না।

কিন্তু প্রশাসনের প্রতিনিধিরা চলে আসার পর পরিবার পুনরায় বিয়ের আয়োজন শুরু করে। বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনওর নির্দেশে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে যান এবং কনের বাবাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ইউএনও মারিয়া হক বলেন, “মেয়েটির প্রকৃত বয়স ১৪ বছর, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ১৮ বছর দেখানো হয়েছিল। বাল্যবিয়ে আইনত অপরাধ এবং এটি মেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়। আমরা শুধু জরিমানা করিনি, অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “নোটারি পাবলিক দিয়ে বয়স বাড়িয়ে বাল্যবিয়ে দেওয়া বেআইনি। অভিভাবকদের এসব কৌশল থেকে বিরত থাকতে হবে, নইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply