বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে: জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী গঙ্গাচড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী রমজান আলীর দুর্নীতির পাহাড় : বরখাস্ত হলেও থামেনি তদন্ত স্ত্রীকে আনতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হাতে খুন হন শফিকুল বুলবুল ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে,এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পঞ্চগড়ে কলেজছাত্রীকে উত্যক্ত: যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড হাতীবান্ধায় পুলিশের মোটরসাইকেলের ধা’ক্কায় বৃদ্ধা মহিলা নি’হত দুর্ঘটনায় ‎মেরুদণ্ড ভেঙে শয্যাশায়ী দিনমজুর ছালাউদ্দিন, চরম মানবিক সংকটে পরিবার বিকেলে ছুটির পর সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ স্কুলের বাথরুম থেকে উদ্ধার হলো শিশু গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১৫ দিনের কর্মসূচি দিলো জামায়াতসহ ১১ দল
‘ডিম পাড়ে হাঁসে,খায় বাগডাশে’- সরকারি কোষাগার থেকে কোটি টাকা লোপাট!

‘ডিম পাড়ে হাঁসে,খায় বাগডাশে’- সরকারি কোষাগার থেকে কোটি টাকা লোপাট!

অফিস সহকারী মোঃ ইসমাইল হোসেন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ডিম পাড়ে হাঁস—কিন্তু তার সুফল পায়নি জনতা। খেয়ে বসেছে ‘বাগডাশে’ রূপী দুর্নীতিবাজ। গাইবান্ধা জেলা পরিষদের অর্থ নিয়ে এমন লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, যা শুধু আইন নয়—সাধারণ ন্যায়ের বোধকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাভেদ হোসেন জেলা প্রশাসকের কাছে অর্থ লুটপাটের ভয়াবহ তথ্য এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের অফিস সহকারী মো. ইসমাইল হোসেন, যিনি নিজেকে বেআইনিভাবে ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক ঘোষণা করে সরকারি অর্থ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর ও ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মনগড়া ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অর্থ লুটপাট করে আসছেন।

গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাভেদ হোসেন জেলা প্রশাসকের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইসমাইল হোসেন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে হিসাবরক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দখল করে রেখেছেন। তিনি ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভুয়া প্রকল্পের নামে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নিয়েছেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের জঘন্য উদাহরণ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শুধুমাত্র ১৯টি চেকের মাধ্যমে উত্তোলিত ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা সন্দেহজনকভাবে ব্যয় করা হয়েছে। এই অর্থের পেছনে নেই কোনো বাস্তব প্রেক্ষাপট বা কার্যক্রম। অভিযোগকারীর ভাষায়, এসব লেনদেন সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ বহন করে।

চাকরির শুরুতে যার নামে ছিল এক ভরি স্বর্ণ ও ১০ হাজার টাকা, আজ তিনি গাইবান্ধা শহরে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, জমি, গোডাউনসহ অঢেল সম্পদের মালিক। তার এবং তার পরিবারের সম্পদের এই বিস্ফোরক উত্থান কীভাবে ঘটল—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল হোসেন অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও বানোয়াট” বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, “তদন্ত হোক, আমার কোনো আপত্তি নেই।”

তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে ‘গাইবান্ধা জেলা পরিষদের ইতিহাসে বড় দুর্নীতির চিত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের আর্থিক লুটপাট একদিনে সম্ভব হয়নি—এর পেছনে থাকতে পারে প্রশাসনের কিছু অংশের নীরব সহায়তা। তারা অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ইসমাইল হোসেনসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাভেদ/প্রবা


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com