গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সামান্য জমির সীমানা বিরোধ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। গাইবান্ধার সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ফাহমিদ রুমন (১৮) নামে এক কলেজছাত্র। এ সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে নিজেও ছুরির আঘাতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২০)।

সোমবার (৮ জুন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন রোববার রাতে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী রেলস্টেশন সংলগ্ন পেয়ারাপুর গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহমিদ রুমন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পেয়ারাপুর গ্রামের মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে। আহত রুহিত তার বড় ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব পেয়ারাপুর গ্রামের ছানা হাজীর ছেলে রাকিবের সঙ্গে রুহিতদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রোববার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করেন।
এসময় বড় ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন ছোট ভাই রুমন। অভিযোগ রয়েছে, তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রুমনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ। যে ছেলে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে কলেজে পড়াশোনা করছিল, জমি নিয়ে বিরোধের বলি হয়ে তার জীবন থেমে গেল অকালে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত এজাহার পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তারা পলাতক রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জনরোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযুক্ত রাকিবের মা বেবি বেগম ও স্ত্রী ইতি বেগমকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply