অনলাইন ডেস্ক::রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে দেখা মিললো লক্ষ্মীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি আশরাফ উদ্দিন আরজুর। পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও যুবলীগ ক্যাডার আরজু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে গা ঢাকা দিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম নাশকতার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর মিরপুর সড়কে মিছিলটি বের হয়, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই গা ঢাকা দেন।

এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রায় ১০০-১৫০ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী মিছিল করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় তারা মিছিল করেন। আজকের মিছিলে দলটির শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মিছিলের এক পর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটানো হয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় সাদা এবং আকাশী রঙের স্টেপের পলো শার্ট পরিহিত লক্ষ্মীপুর পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও যুবলীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আশরাফ উদ্দিন আরজু অংশগ্রহণ করেন। এ সময় হত্যা মামলার এ আসামিকে এক অংশের নেতৃত্ব এবং শ্লোগান দেওয়ারও দৃশ্য চোখে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামি আশরাফ উদ্দিন আরজু জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছেন। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
প্রসঙ্গত, আশরাফ উদ্দিন আরজু গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় লক্ষ্মীপুরের মাদাম ব্রিজ ও বাজারের তমিজ মার্কেট এলাকায় গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালান। সাবেক যুবলীগ নেতা, স্থানীয় চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুর সহযোগী হিসেবে এই হামলায় অংশ নেন তিনি। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাদ আল আফনান, ওসমান গনি ও সাব্বির হোসেনসহ ৪ শিক্ষার্থী নিহত হন। এছাড়াও এ সময় আহত হন অন্তত তিন শতাধিক মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় আরও একাধিক মামলার আসামি এই আশরাফ উদ্দিন আরজু।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর গা ঢাকা দেন আরজু। তবে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর আবারও প্রকাশ্যে দেখা যায় তাকে। গত ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর মজুপুরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে দেয়। তবে রিমান্ড শেষে আশ্চর্যজনকভাবে আরজু জামিনে মুক্তি পান। এরপর লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় এসে আত্মগোপন করে সে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করা এ আরজুর বিরুদ্ধে হামলা, যখম এবং জোরপূর্বক মানুষের বাড়ি-ঘর দখলের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সদর থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজশে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানিও করা হতো। তার এ সকল কাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সেসময়কার সদর থানা পুলিশের এস আই মোস্তফার কথাও আলোচনায় ছিল।
Leave a Reply